তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের পাশাপাশি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির একক প্রার্থী নির্ধারণ করে বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. মো. শাহাদাৎ হোসেন।
তিনি বলেন, “যারা দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে মামলা, হামলা, কারাবরণ ও নির্যাতন সহ্য করেও দলের পতাকা সমুন্নত রেখেছেন, তাদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে জেলা বিএনপি সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করবে। ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করে কোনো হাইব্রিড বা সুযোগসন্ধানী রাজনীতির স্থান বিএনপিতে হবে না।”
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল ৪টায় ঝালকাঠি জেলা আইনজীবী সমিতির হলরুমে সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাড. সৈয়দ হোসেন।
সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক এস. এম. এজাজ হাসানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. খোকন মল্লিকের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাড. মিজানুর রহমান মুবিন, সহ-সভাপতি বাবু চন্দন পোদ্দার, আজিজুর রহমান বশির, ফারজানা ইয়াসমিন, যুগ্ম সম্পাদক আনিসুজ্জামান চপল, কে. এম. জুয়েল, মো. হেমায়েত মল্লিক, মিজানুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ রেজাউল, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক লাভলী আক্তার, বিনয়কাঠী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহিম রফিক সরদার, নথুল্লাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মীর আহসান, বাসন্ডা ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মোঃ সাইদুল ইসলাম, ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন, কিত্তিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শরিফুল হক প্লেটো, নথুল্লাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: সোহেল হোসেন, নবগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার মোঃ শহিদুল্লা, কেওড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহআলম রাজা, পোনাবালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইউনুস মোল্লা, গাভা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক আবু সায়েম কালা প্রমুখ।
সভায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের পরিবর্তে পরবর্তীতে দলে যোগ দেওয়া হাইব্রিডদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রকৃত ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
প্রধান বক্তা অ্যাড. মো. শাহাদাৎ হোসেন আরও বলেন, “বিএনপির প্রতিটি সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে তৃণমূলের মতামত ও আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান রাখা নেতাকর্মীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। যারা কখনো রাজপথে ছিল না, তারা যদি ত্যাগী নেতাদের হেয় বা অবমূল্যায়নের চেষ্টা করে, তাহলে তাদের সাংগঠনিকভাবেই প্রতিহত করা হবে।”
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের একক, গ্রহণযোগ্য ও আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত প্রার্থী নির্ধারণ করতে হবে। ব্যক্তিগত বলয় নয়, দলের সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত। দল মনোনীত একক প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিভক্তি নয়, ঐক্যই বিএনপির শক্তি।”
তিনি আরও বলেন, “ত্যাগ, যোগ্যতা, জনসম্পৃক্ততা ও সাংগঠনিক দক্ষতাকেই প্রার্থী নির্বাচনের প্রধান বিবেচ্য করতে হবে। তৃণমূলের প্রকৃত নেতাকর্মীদের মূল্যায়নে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, জেলা বিএনপি, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
সভায় বক্তারা বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা, তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং দলের শৃঙ্খলা ও ঐক্য অক্ষুণ্ন রেখে আগামীর রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।