• শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫০ অপরাহ্ন

অর্থনীতির চতুর্মুখী চাপ ও বৈশ্বিক উত্তাপ: বাড়তি ব্যয়ের ভার শেষ পর্যন্ত কার কাঁধে?

মো. সহিদুল ইসলাম সুমন / ১২৪ দেখেছেন
আপলোড : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এমন এক নজিরবিহীন ও সংবেদনশীল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে প্রতিটি অর্থনৈতিক সূচক কোনো না কোনো বড় সংকটের স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় অর্থব্যবস্থার প্রকৃত অবস্থা এবং দীর্ঘদিনের জমে থাকা পুঞ্জীভূত অনিয়মের পর্বতসম বোঝা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে স্পষ্ট ও অনাবৃত হয়ে পড়েছে। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব ঘাটতি, সরকারি ঋণের বিপুল পাহাড়, ব্যাংকিং খাতের নজিরবিহীন বিপর্যয়, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দেনা এবং বিনিয়োগের চরম স্থবিরতা—সব মিলিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে এক বহুমাত্রিক চাপের সৃষ্টি হয়েছে। এর ওপর শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের তীব্র অস্থিরতা এবং লোহিত সাগর ঘিরে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার নতুন অনিশ্চয়তা। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সামনে এখন শুধু প্রবৃদ্ধির শতাংশ দেখানো নয়; বরং আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে এই সার্বিক সংকটের গভীরে রয়েছে এক কঠিন রাজনৈতিক অর্থনীতি। বছরের পর বছর ধরে রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থায় যেসব নীতিহীন, অপচয়মূলক ও দুর্নীতিগ্রস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার দায় কোনোভাবেই বর্তমান সাধারণ নাগরিকের নয়। অথচ দুর্নীতির সেই বিল এবং চড়া সুদের আর্থিক মাশুল প্রতিনিয়ত তাঁকেই পরিশোধ করতে হচ্ছে। এখানেই আজকের সবচেয়ে বড় ও নির্মম প্রশ্নটি সামনে আসে—অতীতের অপচয়, নীতিহীন সিদ্ধান্ত ও মেগা দুর্নীতির খেসারত কি আবারও সাধারণ জনগণের পকেট থেকেই আদায় করা হবে?
সরকার পরিবর্তন হয়েছে, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলেছে, কিন্তু অর্থনীতির ক্রান্তিকালীন দায় ও দেনা রাতারাতি উবে যায়নি। বরং নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নজিরবিহীন কিছু অস্বস্তিকর সত্য ও অপ্রিয় হিসাব জাতীয় তথ্যে সামনে এসেছে। এখন কেবল অতীতের দায় গণনা করে সময়ক্ষেপণ করলে চলবে না; বরং কোন নীতির কারণে এই দায় তৈরি হলো, কারা এই লুটেরা ব্যবস্থা থেকে সুবিধা নিল, কোথায় কোথায় রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হয়েছে এবং ভবিষ্যতে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি কীভাবে ঠেকানো যায়—তার কার্যকর ও সাহসী জবাব খোঁজা অত্যন্ত জরুরি।
বাংলাদেশের মোট সরকারি ঋণ ইতোমধ্যেই ২২ লাখ কোটি টাকার নজিরবিহীন সীমা অতিক্রম করেছে। ২০২৬ সালের সংসদীয় তথ্য অনুযায়ী, মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ প্রায় ২২ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে বৈদেশিক ঋণই প্রায় ৯ লাখ ৫৯ হাজার কোটি টাকা। উন্নয়নশীল দেশের প্রেক্ষাপটে অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, শিক্ষা বা যোগাযোগ খাতে রূপান্তরের জন্য ঋণ গ্রহণ নিজে কোনো অপরাধ নয়। কিন্তু ঋণের মূল বিচার হওয়া উচিত—সেই অর্থ কোথায় ব্যয় হলো এবং তার বিনিময়ে জাতীয় অর্থনীতি দৃশ্যমান কী সুফল বা রিটার্ন পেল।
যে ঋণ উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ায়, রপ্তানি বৃদ্ধি করে, আমদানি নির্ভরতা কমায় কিংবা বৈদেশিক মুদ্রার আয় বৃদ্ধি করে, তা অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি যৌক্তিক। কিন্তু যেসব মেগা প্রকল্প বারবার সময় ও ব্যয় বাড়িয়ে অলাভজনক বা স্বল্প সুফলদায়ক অবকাঠামোয় চড়া সুদে বাস্তবায়ন করা হয়েছে, তা এখন উন্নয়নের প্রতীক না হয়ে ভবিষ্যৎ অর্থনীতির ওপর এক বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাপী সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় আগে যেখানে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের গড় খরচ ছিল ১ থেকে ২ শতাংশ, তা এখন ৬ থেকে ৭ শতাংশে পৌঁছেছে।
এখন সেই ঋণের মাশুল গোনার চড়া সময় এসেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের মূল ও সুদ পরিশোধ করতেই বাংলাদেশকে প্রায় ৪ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার গলে দিতে হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটে কেবল ঋণের সুদ পরিশোধের জন্যই বরাদ্দ রাখতে হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। রাষ্ট্রের ব্যয়ের একটি বড় অংশ যদি নতুন কর্মসংস্থান, মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তিতে ব্যয় না হয়ে অতীতের মেগা প্রকল্পের ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে চলে যায়, তবে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল হতে বাধ্য।
ঘাটতি পূরণে সরকারকে ব্যাংক ও অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেও বিপুল পরিমাণ টাকা তুলতে হচ্ছে। এর ফলে এক বিপজ্জনক অর্থনৈতিক চক্র তৈরি হয়েছে—সরকারের ঋণ বাড়ে, সুদের ব্যয় বাড়ে, বাজেটের জনকল্যাণমূলক ব্যয়ের জায়গা কমে যায়, আর সরকার আবার নতুন ঋণ নেয়। এতে ব্যাংকিং খাতের মূলধনের বড় অংশ সরকারি খাতে চলে যাওয়ায় বেসরকারি উদ্যোক্তারা বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পাচ্ছেন না। ফলে নতুন কলকারখানা স্থাপন, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি থমকে যাচ্ছে।
অভ্যন্তরীণ আর্থিক ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি ব্যাংকিং খাতের অবস্থা আরও ভয়াবহ। ২০২৬ সালের জুন শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। একজন ক্ষুদ্র বা মাঝারি উদ্যোক্তা ঋণের একটি কিস্তি খেলাপ করলে ব্যাংক ও রাষ্ট্র তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেয়, অথচ হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎকারী বড় ও প্রভাবশালী ঋণখেলাপিদের বছরের পর বছর পুনঃতফসিল ও বিশেষ সুবিধাবলি দিয়ে আসকারা দেওয়া হয়েছে। ফলে সৎ ঋণগ্রহীতা শাস্তি পায় আর প্রভাবশালী খেলাপী পুরস্কৃত হয়। এই অন্যায় সংস্কৃতি বন্ধ না হলে ব্যাংকিং খাতের কোনো সংস্কারই টিকবে না, কারণ শেষ পর্যন্ত ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি মেটাতে রাষ্ট্রকে করদাতার টাকায় ভর্তুকি দিতে হয়। অর্থাৎ বড় ঋণখেলাপির অপকর্মের দায় শেষ পর্যন্ত সাধারণ নাগরিকেরই ঘাড়ে চাপছে।
একই করুণ চিত্র দৃশ্যমান দেশের শক্তি ও জ্বালানি খাতে। ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বকেয়া পাওনা দাঁড়ায় প্রায় ৫২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। বিগত বছরগুলোতে বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন না করলেও চুক্তি অনুযায়ী যে বিপুল পরিমাণ সক্ষমতা ব্যয় বা ধারণ ক্ষমতা মেটানোর টাকা গুনে দেওয়া হয়েছে, তা বিশ্ব ইতিহাসের এক বিরল অপচয়। আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী, ভারতের আদানি পাওয়ার কিংবা দেশীয় বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর বিপুল বকেয়া মেটাতে এবং জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ব্যয় সামলাতে গিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোকে বিপুল পরিমাণ চড়া মাশুল গুনতে হচ্ছে।
একদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক মূল্যস্ফীতি সামলাতে কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করে নীতি সুদহার প্রায় ১০ শতাংশের কাছাকাছি নিয়ে গেছে, যার ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণের সুদহার ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ বা তারও বেশি হয়ে পড়েছে। এতে ব্যবসা পরিচালন ব্যয় আকাশছোঁয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা ধীরগতিতে (৮.৩২ শতাংশ) নেমে এলেও দীর্ঘদিনের জমে থাকা উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের সঞ্চয় ও ক্রয়ক্ষমতাকে প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছে। এই মূল্যস্ফীতি প্রকৃতপক্ষে এক নিষ্ঠুর ‘অদৃশ্য কর’, যা প্রতিদিন সাধারণ মানুষের পকেট থেকে জমানো টাকা কেড়ে নিচ্ছে এবং পরিবারগুলোকে তাঁদের মৌলিক চাহিদা কাটছাঁট করতে বাধ্য করছে।
এর ওপর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা আন্তর্জাতিক নৌ-পরিবহন ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দিয়েছে। লোহিত সাগরের সংকটে কন্টেইনার ভাড়ার পাশাপাশি শিপিং লাইনের ঝুঁকিজনিত প্রিমিয়াম হু-হু করে বেড়েছে। ফলে আমদানিকৃত সার, জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বর্ধিত আমদানিমূল্য শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরই আছড়ে পড়ছে। যদিও আমাদের প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো বৈদেশিক আয় ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে অর্থনীতিতে একটি শক্তিশালী সুরক্ষা তৈরি করেছে, তবুও দীর্ঘস্থায়ী আন্তর্জাতিক যুদ্ধের প্রভাব কেবল প্রবাসীদের আয়ে ভর দিয়ে সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।
এই সংকটময় পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে সরকার যদি আবারও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, সারের ভর্তুকি কর্তন, ভ্যাটের হার বৃদ্ধি কিংবা নিত্যপণ্যের ওপর পরোক্ষ কর বাড়ানোর মতো সহজ পথ বেছে নেয়, তবে তা হবে চরম অন্যায্য ও বিচারহীনতা। একজন খেটে খাওয়া দিনমজুর বা পোশাক শ্রমিক যখন বাজার থেকে তেল কিংবা সাবান কেনেন, তাঁকেও ধনী ব্যক্তির সমপরিমাণ ভ্যাট দিতে হয়। ফলে রাজস্ব সংগ্রহের এই অসংবেদনশীল কৌশল কার্যত সাধারণ মানুষকে আরও নিঃস্ব করে ফেলে।
রাষ্ট্রকে তাই এখন সহজ পথ পরিহার করে কঠিন ও ন্যায়সংগত সংস্কারের পথ বেছে নিতে হবে:
• স্বাধীন ঋণ নিরীক্ষা: বিগত সময়ে নেওয়া সমস্ত দেশি ও বিদেশি ঋণের শর্ত, প্রকল্পের ব্যয়বৃদ্ধি এবং বাস্তব অর্থনৈতিক সুফল যাচাইয়ে একটি স্বাধীন জাতীয় ঋণ নিরীক্ষা কমিশন গঠন করে তা প্রকাশ করতে হবে।
• জ্বালানি চুক্তির পুনর্মূল্যায়ন: বিদ্যুৎ খাতের অসম চুক্তি ও উৎপাদন না করেও বসে বসে টাকা দেওয়ার অন্যায্য নিয়ম দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় বাতিল ও সংশোধন করতে হবে।
• খেলাপি ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোরতা: প্রকৃতপক্ষে সংকটে পড়া ব্যবসায়ী এবং ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করে লুটেরাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সহায়তায় পাচার করা অর্থ ফেরত আনার কার্যকর আইনি পর কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
• ন্যায্য করব্যবস্থা: পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সমাজের অতি-ধনী, বিপুল সম্পদের মালিক ও বড় কর্পোরেট খাতের প্রত্যক্ষ কর নিশ্চিত করতে হবে। করের হার না বাড়িয়ে কর ফাঁকি বন্ধ ও করের আওতা বাড়াতে হবে।
• রাষ্ট্রের নিজস্ব অপচয় হ্রাস: জনগণের ওপর বাড়তি কর বা পণ্যের মূল্য চাপানোর আগে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির কম গুরুত্বপূর্ণ ও রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া প্রকল্পগুলো ছেঁটে ফেলে রাষ্ট্রের নিজস্ব খরচ কমাতে হবে।
অর্থনৈতিক সংস্কারের মূলনীতি হওয়া উচিত—”আগে রাষ্ট্রের অপচয় কমাও, তারপর জনগণের ওপর ত্যাগের আহ্বান জানাও।”
বাংলাদেশ এখন এমন এক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে কেবল মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) বাহ্যিক প্রবৃদ্ধি দিয়ে স্বস্তি পাওয়ার সুযোগ নেই। দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার আসল মানদণ্ড হলো মানুষের প্রকৃত আয়, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতির লাগাম এবং জীবনযাত্রার মান। শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের প্রতিটি টাকা জনগণের কষ্টার্জিত টাকা। ভুল সিদ্ধান্তের মাশুল যদি বছরের পর বছর কোটি মানুষকে দিতে হয়, তবে তা শুধু অর্থনৈতিক সংকট থাকে না, তা একটি দেশের সামাজিক ন্যায়বিচারের সংকট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
বাংলাদেশের সামনে আজ তাই একটিই বড় প্রশ্ন—সংকটের পাহাড়সম বোঝা কি আবারও অন্যায্যভাবে সাধারণ মানুষের কাঁধেই চাপানো হবে, নাকি রাষ্ট্র সাহসী সংস্কারের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ী ও সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে তাঁদের ন্যায্য অংশ আদায় করবে? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে দেশের আগামী দিনের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা।
লেখক : অর্থনীতি বিশ্লেষক, কলামিস্ট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গবেষক।
E-mail: msislam.sumon@gmail.com


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..