• শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৩ অপরাহ্ন

‘মা, খুব কষ্ট হচ্ছে, আমাকে নিয়ে যাও’—মাদ্রাসাছাত্রকে নির্যাতনের অভিযোগ, শিক্ষক আটক

দৈনিক গণচিঠি ডিজিটাল ডেস্ক / ২১ দেখেছেন
আপলোড : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ১০ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিনকে আটক করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামানকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে মির্জাপুর উপজেলার বাইপাস বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি মাদ্রাসায় এ ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের অভিযোগ, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাকে নাজেরা বিভাগে ভর্তি করা হয় এবং পরে সে মাদ্রাসার আবাসিক ব্যবস্থায় থাকত। পরিবারের দাবি, প্রায় তিন মাস ধরে ভয়ভীতি ও বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে শিশুটির পেটে ব্যথা, রক্তপাতসহ শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। অসুস্থতার কথা জানালে তার মা তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে বিভিন্ন হাসপাতালে তার চিকিৎসা করানো হয়।

পরিবারের দাবি, প্রায় ১১ দিন আগে শিশুটিকে আবার মাদ্রাসায় রেখে যাওয়া হয়। এর মধ্যে কয়েকদিন তাকে আবারও নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। একপর্যায়ে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সে বিষয়টি তার মাকে জানায়। পরে তাকে আবার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মির্জাপুর সদরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে শিশুটির বিভিন্ন পরীক্ষা করানো হয়। পরিবারের দাবি, চিকিৎসক শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে নির্যাতনের বিষয়টি তাদের জানান।

এরপর শুক্রবার সকালে শিশুটির মা, নানা ও মামা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবি করেন। এ সময় শিক্ষক ও প্রিন্সিপালের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসায় জড়ো হন এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করেন।

এদিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল শিক্ষার্থীদের হাতে লাঠি তুলে দিয়ে জনতার ওপর হামলার নির্দেশ দিয়েছেন—এমন অভিযোগও উঠেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে প্রিন্সিপালের বক্তব্যও রয়েছে।

খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে প্রিন্সিপাল ও অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

ভুক্তভোগী শিশুর নানা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। শিশুটির মা-ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষক আল আমিন বলেন, “আমি নির্দোষ। উপরে আল্লাহ আছেন, তিনি বিচার করবেন।” পেটব্যথার কারণে শিশুটিকে গ্যাস্ট্রোলিভারের চিকিৎসক দেখানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।

মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে আর প্রতিষ্ঠানে রাখা হবে না। জনতার ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কয়েকজন তার গলা চেপে ধরেছিলেন, সে কারণেই তিনি এমন নির্দেশ দিয়েছিলেন।

মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রিন্সিপাল ও অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় আনা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..