• সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৭ অপরাহ্ন

ঝড়ে বিধ্বস্ত মনিরামপুরের আনসার-ভিডিপি সমিতি ও পল্লী উন্নয়ন গ্রন্থাগার; দুই বছরেও নেই সংস্কার

​জেমস আব্দুর রহিম রানা, মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: / ৫৪ দেখেছেন
আপলোড : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়ার দুই বছর পার হলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রজিপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ‘রজিপুর আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন সমিতি ও পল্লী উন্নয়ন গ্রন্থাগার’-এর। একসময়ের জেলার শ্রেষ্ঠ স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানটি আজ চরম প্রশাসনিক উদাসীনতা ও অবহেলায় বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) স্থানীয় সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালের ৫ এপ্রিল রজিপুর গ্রামের সাংবাদিক ও সমাজসেবক জয়দেব মল্লিক (বিশ্বজিৎ)-এর উদ্যোগে ভিডিপি দলনেত্রী লক্ষীরানী মল্লিক, গণেশ মল্লিক ও দিলীপ হালদারসহ কয়েকজন সমাজসচেতন ব্যক্তির প্রচেষ্টায় সমিতিটির যাত্রা শুরু হয় (নিবন্ধন নং-৩২০)। সমিতির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গ্রামের বাসিন্দা বাবু পূর্ণচন্দ্র মল্লিক তিন শতক জমি দান করেন, যেখানে গড়ে তোলা হয় নিজস্ব অবকাঠামো।

​পরবর্তীতে ২০০০ সালে জয়দেব মল্লিকের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘পল্লী উন্নয়ন গ্রন্থাগার’। প্রতিষ্ঠানটি দ্রুতই ওই অঞ্চলে জ্ঞানচর্চা, সংবাদপত্র পাঠ এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়। এমনকি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সালিশি বৈঠক ও সামাজিক সিদ্ধান্তও এই ভবনে গৃহীত হতো। রজিপুর গ্রামের শিক্ষা বিস্তারেও এর অবদান অনস্বীকার্য—এ প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল রজিপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যা আজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হয়েছে।
​গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবার পরিকল্পনা, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডে অবদানের জন্য সমিতিটি যশোরের আটটি থানার মধ্যে ‘জেলার শ্রেষ্ঠ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। পাশাপাশি শতভাগ স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা নিশ্চিতকরণ ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে সাফল্যের জন্য রজিপুর গ্রামকে জেলার শ্রেষ্ঠ গ্রাম হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়। সমিতিকে ২০০০ সালে জেলা অ্যাডজুটেন্ট মো. জাকির হোসেন একটি টেলিভিশন উপহার দিয়ে উৎসাহিত করেন।

​তবে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে এক ভয়াবহ ঝড়ে ভবনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভেঙে পড়ে। এরপর ভবন পুনঃসংস্কারের জন্য যশোর জেলা কমান্ড্যান্টের কাছে লিখিত আবেদন করা হলেও আজ পর্যন্ত কোনো আলোর মুখ দেখেনি প্রতিষ্ঠানটি। ফলে গত দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে লাইব্রেরির বইপড়া, সামাজিক শিক্ষা ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম।
​প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক জয়দেব মল্লিক (বিশ্বজিৎ) আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “একটি গ্রন্থাগার ধ্বংস হওয়া মানে কেবল একটি ভবনের ক্ষতি নয়, বরং একটি এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আলোকবর্তিকা নিভে যাওয়া। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পরও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা চরম হতাশাজনক। দ্রুত সংস্কার না করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস থেকে বঞ্চিত হবে।”

​ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটির গৌরব ফিরিয়ে আনতে এবং ভবন পুনর্নির্মাণে আনসার ও ভিডিপি অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..