• সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৭ অপরাহ্ন

টানা আটবার অস্ত্রোপচারের পরেও থেমে নেই সাংবাদিক রহিম রানার জীবনযুদ্ধ, মানবিক সাহায্যের আবেদন

গণচিঠি ডেস্ক : / ৭৮ দেখেছেন
আপলোড : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সাড়ে ৬ লাখ টাকা খরচ, ১৭ নভেম্বর ফের জটিল অপারেশন; অর্থাভাবে ওষুধ কেনাও কঠিন !

খোলা চিঠি : একটি সড়ক দুর্ঘটনা বদলে দিয়েছে সাংবাদিক জেমস আব্দুর রহিম রানার জীবন। একের পর এক আটটি বড় অস্ত্রোপচার, দীর্ঘ হাসপাতালবাসন, অসহনীয় শারীরিক যন্ত্রণা আর চিকিৎসার বিপুল ব্যয়—সবকিছুর পরও সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তবে দীর্ঘ এই চিকিৎসাযুদ্ধে এবার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থসংকট। পরিবারের দাবি, চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে সঞ্চয় প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এমনকি প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

গত ২৭ মে যশোরের কেশবপুর উপজেলার ভেরচি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক ও কলামিস্ট জেমস আব্দুর রহিম রানা। দুর্ঘটনায় তাঁর ডান পায়ের হাড় একাধিক টুকরো হয়ে যায়। একই সঙ্গে পায়ের চামড়া ও নরম টিস্যু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান—নিটোরে ভর্তি করা হয়।

নিটোরের গ্রিন-২ ইউনিটের ইএফ ওয়ার্ডে অধ্যাপক ডা. মো. মিজানুর রহমানের তত্ত্বাবধানে শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা। এরপর ধাপে ধাপে তাঁকে সাতটি বড় অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি চলে ক্ষত পরিচর্যা, ড্রেসিং, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য চিকিৎসা। প্রতিটি অস্ত্রোপচারের পর নতুন করে শুরু হয়েছে ব্যথা, কষ্ট এবং সুস্থ হয়ে ওঠার অপেক্ষা।

সাতটি অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১২ সেপ্টেম্বর তাঁর অষ্টম অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল। সেদিন তাঁকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় অর্থের ঘাটতির কারণে অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু চিকিৎসা উপকরণ ও অন্যান্য ব্যয় মেটাতে জটিলতা তৈরি হয়। ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও সেদিন অস্ত্রোপচার ছাড়াই ফিরে আসতে হয় তাঁকে।

পরে গত ১৯ সেপ্টেম্বর তাঁর অষ্টম অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। ওই অস্ত্রোপচারে ক্ষতিগ্রস্ত ডান পায়ে ইলিজারভ (Ilizarov) বা সার্কুলার এক্সটারনাল ফিক্সেটর (Circular External Fixator) রিং-ফিক্সেটর স্থাপন করা হয়। চিকিৎসার পরবর্তী ধাপে পায়ের ভাঙা হাড় ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশের চিকিৎসায় এই প্রক্রিয়াটি গুরুত্বপূর্ণ বলে পরিবার জানিয়েছে।
অষ্টম অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে এক মাসের জন্য হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের খাকুন্দী গ্রামের নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন জেমস রহিম রানা। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলেও চিকিৎসা থেকে মুক্তি মেলেনি। নিয়মিত ওষুধ, ড্রেসিং, ক্ষত পরিচর্যা এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলতে হচ্ছে তাঁকে।

এর মধ্যেই সামনে এসেছে নতুন দুশ্চিন্তা। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা আগামী ১৭ নভেম্বর তাঁর আরও একটি জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচারের তারিখ নির্ধারণ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত ডান পায়ের চিকিৎসা চলার পর পরবর্তী ধাপ হিসেবে এ অস্ত্রোপচারটি গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে পরিবার।
কিন্তু সেই চিকিৎসার ব্যয় কীভাবে মেটানো হবে, তা নিয়েই এখন দুশ্চিন্তায় পরিবার। পরিবারের সদস্যদের দাবি, দুর্ঘটনার পর থেকে আটটি অস্ত্রোপচার, ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ড্রেসিং ও অন্যান্য চিকিৎসা ব্যয় মিলিয়ে এ পর্যন্ত সাড়ে ৬ লাখ টাকারও বেশি খরচ হয়েছে। চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারের সঞ্চয় প্রায় শেষ হয়ে গেছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া সহযোগিতা এবং ধারদেনার মাধ্যমে এতদিন চিকিৎসা চালানো হলেও এখন আর্থিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
পরিবারের দাবি, অর্থসংকটের কারণে বর্তমানে প্রয়োজনীয় ওষুধও নিয়মিত কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। অথচ এই সময়ে নিয়মিত চিকিৎসা, ওষুধ ও ক্ষত পরিচর্যা চালিয়ে যাওয়া জরুরি। আগামী ১৭ নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার সামনে রেখে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করতে না পারলে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

জেমস আব্দুর রহিম রানা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসার মধ্যে আছি। একের পর এক অস্ত্রোপচারের যন্ত্রণা সহ্য করেছি। মহান সৃষ্টিকর্তার ওপর বিশ্বাস রেখেই এখনো সুস্থ হওয়ার আশা করছি। কিন্তু চিকিৎসার খরচ বহন করা আমাদের পরিবারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “জীবনের দীর্ঘ সময় মানুষের দুঃখ-কষ্ট ও অসহায়ত্বের কথা কলমের মাধ্যমে তুলে ধরেছি। আজ আমি নিজেই অসহায় অবস্থায় মানুষের সহযোগিতার প্রত্যাশী। যারা পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। এখনো যাঁরা সহযোগিতার হাত বাড়াতে পারবেন, তাঁদের কাছে আমি আন্তরিকভাবে দোয়া ও মানবিক সহায়তা চাই।”

জেমস রহিম রানার চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে চাইলে—
বিকাশ (Personal): 01300832868
নগদ (Personal): 01400935540

সড়ক দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ চিকিৎসাযুদ্ধ পেরিয়েও শেষ হয়নি সাংবাদিক জেমস আব্দুর রহিম রানার লড়াই। আটটি অস্ত্রোপচারের পরও সামনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার। একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পা, অন্যদিকে চিকিৎসার বিপুল ব্যয়—দুই সংকটের মাঝেই সুস্থ জীবনে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
যে মানুষটি দীর্ঘদিন কলম হাতে মানুষের দুঃখ-কষ্ট ও অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেছেন, আজ তাঁর নিজের চিকিৎসার জন্যই প্রয়োজন মানুষের সহমর্মিতা। তাঁর পরিবার সহকর্মী সাংবাদিক, লেখক-সাহিত্যিক, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং দেশ-বিদেশের মানবিক মানুষের কাছে দোয়া ও সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার আন্তরিক আবেদন জানিয়েছে।

জেমস আব্দুর রহিম রানা
সিনিয়র গণমাধ্যমকর্মী, সাহিত্যিক ও কলামিস্ট।
মোবাইল : ০১৩০০৮৩২৮৬৮


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..