খাগড়াছড়ির বিয়ারৌং অনাথ আশ্রমের নিবাসী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ উন্নত করতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের ফার্নিচার সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আশ্রমের ৪০ জন নিবাসী শিক্ষার্থীর মধ্যে শিক্ষা উপকরণ ও ফলমূল বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিয়ারৌং অনাথ আশ্রমের হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব সামগ্রী আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর ও বিতরণ করা হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৪৫ সেট বেঞ্চ, যার মধ্যে ৪৫টি হাই বেঞ্চ ও ৪৫টি লো বেঞ্চ, চারটি টেবিল, চারটি চেয়ার এবং দুটি আলমারি। অন্যদিকে ওয়াদুদ ভূঁইয়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ৪০ জন নিবাসী শিক্ষার্থীর জন্য খাতা ও কলমসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ এবং আপেল ও আঙুর বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি শাহেদুল হোসেন সুমন। বিয়ারৌং অনাথ আশ্রমের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি পরিমল জ্যোতি ত্রিপুরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক চন্দ্র কিশোর ত্রিপুরা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি নুশরাত হোসেন বাপ্পী, সাবেক সহসভাপতি বিপন ত্রিপুরা, সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক মিলন ত্রিপুরা এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুতি রঞ্জন ত্রিপুরা।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিয়ারৌং অনাথ আশ্রমের কার্যনির্বাহী কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক কাজল বরণ ত্রিপুরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহেদুল হোসেন সুমন বলেন, খাগড়াছড়ির বর্তমান সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া একজন অসাম্প্রদায়িক চেতনার রাজনীতিক ও অবিসংবাদিত নেতা। তিনি সব সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। বিয়ারৌং অনাথ আশ্রমের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অনাথ শিশুদের শিক্ষা, নিরাপদ পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি বলেন, একটি শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু পরিবারের নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রেরও। যেসব শিশু পারিবারিক নানা সীমাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ থেকে বঞ্চিত, তাদের জন্য অনাথ আশ্রমগুলো গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করছে। এসব প্রতিষ্ঠানে বসবাসকারী শিক্ষার্থীরা যেন মানসম্মত শিক্ষা লাভের পাশাপাশি একটি সুন্দর ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন গড়ে তুলতে পারে, সেদিকে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের আরও এগিয়ে আসতে হবে।
শাহেদুল হোসেন সুমন আরও বলেন, বিয়ারৌং অনাথ আশ্রমের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ উন্নয়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ফার্নিচার প্রদান একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। একইভাবে ওয়াদুদ ভূঁইয়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে শিক্ষা উপকরণ ও ফলমূল বিতরণও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করবে। তবে শুধু এককালীন সহায়তা দিয়ে একটি প্রতিষ্ঠানের সব প্রয়োজন পূরণ করা সম্ভব নয়।
তিনি আশ্রমের বর্তমান অবকাঠামোগত সমস্যা, শিক্ষার্থীদের আবাসন, শিক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন। আগামী এক বছরের মধ্যে বিয়ারৌং অনাথ আশ্রমের অবকাঠামোসহ যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়ার সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, “বিয়ারৌং অনাথ আশ্রমের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো আমরা পর্যায়ক্রমে চিহ্নিত করব। আশ্রমের অবকাঠামো, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, সে বিষয়ে সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়ার সঙ্গে আলোচনা করা হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে দৃশ্যমানভাবে কিছু উন্নয়ন করার জন্য আমরা কাজ করতে চাই।”
শাহেদুল হোসেন সুমন বলেন, শিশুদের কল্যাণে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে কাজ করতে হবে। কোনো শিশুই যেন অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা, পারিবারিক অসহায়ত্ব বা সামাজিক সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিয়ারৌং অনাথ আশ্রমের শিক্ষার্থীদের জন্য ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
স্বাগত বক্তব্যে আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক চন্দ্র কিশোর ত্রিপুরা বলেন, আশ্রমের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও আবাসিক পরিবেশ উন্নয়নে ফার্নিচারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও ওয়াদুদ ভূঁইয়া ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও আশ্রমের পাশে থাকার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথিরা বলেন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও মানবিক বিকাশে বিয়ারৌং অনাথ আশ্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আশ্রমের উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানে বিয়ারৌং অনাথ আশ্রমের কার্যনির্বাহী কমিটির সহসভাপতি গণেশ চন্দ্র ত্রিপুরা, কোষাধ্যক্ষ মিহির কান্তি ত্রিপুরা, কার্যনির্বাহী সদস্য পপেন ত্রিপুরা, সদস্য মিতালী ত্রিপুরাসহ আশ্রমের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে আশ্রমের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফার্নিচার ও শিক্ষা উপকরণ হস্তান্তর এবং ফলমূল বিতরণ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এসব সহায়তা আশ্রমের আবাসিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ আরও উন্নত করার পাশাপাশি তাদের শিক্ষাজীবনে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জোগাবে।