• মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:১২ অপরাহ্ন
হেডলাইন :

কবে কাটবে ঈদগাঁও উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সংকট? আধুনিক ভবনের অপেক্ষায় সেবা প্রত্যাশীরা

মোহাম্মদ সেলিম, ঈদগাঁও (কক্সবাজার) / ১৬ দেখেছেন
আপলোড : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চরম সংকটের মুখে পড়েছে। তীব্র চিকিৎসক সংকট, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থার অভাবে কোনো রকমে জোড়াতালি দিয়ে চলছে এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম।

স্বাস্থ্য বিভাগের নিজস্ব কোনো অর্থনৈতিক কোড না থাকা এবং পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে অনেক মেডিকেল অফিসারই এখানে থাকতে চান না, ফলে বদলি হয়ে চলে যাচ্ছেন। এছাড়া, বর্তমানে একটি মাত্র দুই তলা ভবনে গাদাগাদি করে তিনটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলায় রোগীদের পর্যাপ্ত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

কেন্দ্রটিতে প্রয়োজনীয় কোনো ডায়াগনস্টিক বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। এর ফলে চিকিৎসা নিতে আসা বিপুল সংখ্যক রোগী বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালের দিকে ঝুঁকছেন এবং অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের শিকার হচ্ছেন।

কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। নিয়ম অনুযায়ী ১০ জন আনসার সদস্য থাকার কথা থাকলেও আবাসন সংকটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। মাত্র একজন গার্ডের পক্ষে বিশাল এই কম্পাউন্ডের নিরাপত্তা সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এছাড়া, কম্পাউন্ডে পড়ে থাকা ময়লার স্তূপ পরিবেশকে আরও অস্বাস্থ্যকর করে তুলেছে।

বর্তমানে ৮ জন বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার মেডিকেল অফিসার নিয়োগ পাওয়ার কথা থাকলেও এখানে কর্মরত আছেন মাত্র ৩ জন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রোখসানা আফাজ অতিরিক্ত দায়িত্বে থেকে অত্যন্ত সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে কেন্দ্রটি সচল রাখার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, জনসেবা নিশ্চিত করতে তিনি দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন, কিন্তু আবাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এ সংকট নিরসনে কর্তৃপক্ষ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কক্সবাজার সদর উপজেলার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. টিটু চন্দ্র শীল জানিয়েছেন, ঈদগাঁও উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নতুন ভবনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ৫ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। ইতিমধ্যেই টেন্ডারের মাধ্যমে পুরনো ও পরিত্যক্ত তিনটি ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে। খুব দ্রুত স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে নতুন আধুনিক ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..