• শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ন
হেডলাইন :
বরিশালে মহানগর ছাত্রদলের উদ্যোগে ‘গণতন্ত্রমূলক আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা’ অনুষ্ঠিত চাঁদ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী, মোংলা বন্দরে আলোচনায় বশির উদ্দিন সাপাহারে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত আলেকান্দা সরকারি কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত নওগাঁয় মাদকবিরোধী অভিযানে সুইপার কলোনি নুনিয়াপট্টি থেকে ১০ জন গ্রেপ্তার, ৯৬০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার ‎মোংলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ১৫,৬০০ লিটার অবৈধ সয়াবিন তেল জব্দ শিক্ষার্থীকে নিয়ে ‘উধাও’ হওয়ার প্রচার মিথ্যা,শিক্ষক অসীমের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত২০২৬খ্রি:

শিক্ষার্থীকে নিয়ে ‘উধাও’ হওয়ার প্রচার মিথ্যা,শিক্ষক অসীমের

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাজশাহী / ১৫ দেখেছেন
আপলোড : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজশাহীর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) শিক্ষক অসীম কুমার ঘোষকে এক শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে ‘উধাও’ হওয়ার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করা, পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করা এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরির উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এ প্রচারণা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
নিজের বিরুদ্ধে ছড়িয়ে পড়া এসব অভিযোগের প্রতিবাদ জানাতে শনিবার রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন আইএইচটির শিক্ষক অসীম কুমার ঘোষ। সেখানে তিনি লিখিত বক্তব্যে ঘটনার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। পাশাপাশি যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার জন্য গণমাধ্যমকর্মী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে অসীম কুমার ঘোষ জানান, গত ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে নিয়ম অনুযায়ী ছুটি নেন। ছুটির সময়ে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। কিন্তু ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে একটি শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে।
তার দাবি, এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। তিনি কোনো শিক্ষার্থীকে নিয়ে কোথাও উধাও হননি। তার বিরুদ্ধে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগকে তিনি পরিকল্পিত অপপ্রচার হিসেবে উল্লেখ করেন।
অসীম কুমার ঘোষ বলেন, শিক্ষকতা জীবনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার যে সম্পর্ক ও আস্থা তৈরি হয়েছে, সেটি নষ্ট করার লক্ষ্যেই একটি চিহ্নিত মহল এ ধরনের প্রচারণা চালিয়েছে। তার ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, একটি অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে তা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক ও পেশাগত জীবনে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তার ক্ষেত্রেও সেটিই ঘটেছে। ছড়িয়ে পড়া প্রচারণার কারণে তিনি সামাজিকভাবে বিব্রত হয়েছেন এবং তার দীর্ঘদিনের অর্জিত সম্মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান।
পুলিশের লোকেশন ট্র্যাকিং নিয়ে প্রচারিত বিভিন্ন তথ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অসীম কুমার ঘোষ। তিনি জানতে চান, কোনো পক্ষ থেকে অভিযোগ করা না হয়ে থাকলে দুজনের মোবাইল নম্বরের লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের বিষয়টি কীভাবে সামনে এলো। তার অভিযোগ, অনুমাননির্ভর তথ্যকে কেন্দ্র করে তার ছবি ব্যবহার করে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছে।
এতে তার যে সামাজিক ও পেশাগত সম্মানহানি হয়েছে, তার দায়ভার কে নেবে—সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নও রাখেন তিনি।
অসীম কুমার ঘোষ আরও অভিযোগ করেন, তাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ঘটনাটিকে ব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল এলাকায় সাম্প্রদায়িক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন অজ্ঞাত নম্বর থেকে তাকে নিয়মিত ফোন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব কারণে তিনি চরম মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন।
নিজের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। অসীম কুমার ঘোষ প্রশ্ন করেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের একজন মানুষ হওয়াটাই কি তার অপরাধ? একজন শিক্ষক হিসেবে এমন পরিস্থিতির পর তিনি কীভাবে আবার শিক্ষার্থীদের সামনে গিয়ে দাঁড়াবেন—এ নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপপ্রচারের কারণে অনেক মানুষের কাছে তার সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে। অথচ বাস্তবে যে ঘটনা প্রচার করা হচ্ছে, তার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। একজন শিক্ষক হিসেবে তার মর্যাদা ও সামাজিক অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্যই এমন প্রচারণা চালানো হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
সংবাদমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অসীম কুমার ঘোষ বলেন, কোনো ব্যক্তি বা মহলের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই না করে সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করা উচিত নয়। কোনো অভিযোগ সামনে এলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধানের মাধ্যমে সত্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য প্রকাশের পর সেটি অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে যাচাইহীন কোনো অভিযোগ একজন মানুষের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ কারণে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সাধারণ মানুষের প্রতিও তিনি অনুরোধ জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো পোস্ট বা তথ্য সত্যতা যাচাই ছাড়া বিশ্বাস কিংবা শেয়ার না করতে। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে অভিযোগ বা প্রচারণা চালানো হলে সেটির সত্যতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তা প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অসীম কুমার ঘোষ বলেন, তিনি কারও সঙ্গে বিরোধে যেতে চান না এবং অযথা কাউকে হয়রানিও করতে চান না। তবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার, সামাজিকভাবে হেয় করা এবং হুমকি দেওয়ার ঘটনা চলতে থাকলে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভিত্তিহীন অপপ্রচার ও হুমকি অব্যাহত থাকলে নিজের নিরাপত্তা এবং সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মানহানি ও প্রচলিত তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
সবশেষে অসীম কুমার ঘোষ গণমাধ্যমের কাছে ঘটনার প্রকৃত সত্য তুলে ধরার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে তথ্যের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। একজন শিক্ষক ও নাগরিক হিসেবে তার সামাজিক মর্যাদা এবং নিরাপত্তা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..