• রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন
হেডলাইন :
বরিশালে মহানগর ছাত্রদলের উদ্যোগে ‘গণতন্ত্রমূলক আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা’ অনুষ্ঠিত চাঁদ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী, মোংলা বন্দরে আলোচনায় বশির উদ্দিন সাপাহারে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত আলেকান্দা সরকারি কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত নওগাঁয় মাদকবিরোধী অভিযানে সুইপার কলোনি নুনিয়াপট্টি থেকে ১০ জন গ্রেপ্তার, ৯৬০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার ‎মোংলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ১৫,৬০০ লিটার অবৈধ সয়াবিন তেল জব্দ শিক্ষার্থীকে নিয়ে ‘উধাও’ হওয়ার প্রচার মিথ্যা,শিক্ষক অসীমের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত২০২৬খ্রি:

খাগড়াছড়িতে সঞ্জীব কুমার বণিকের সুদের বেড়াজালে নি:স্ব শত শত পরিবার

খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি / ১৪৬ দেখেছেন
আপলোড : শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬

খাগড়াছড়িতে সুদ ব্যবসায়ী সঞ্জীব কুমার বণিকের কবলে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার। এক লাখ ১০ হাজার টাকা সুদে-আসলে পরিশোধ করার পরও অনেকের মাথার উপর অর্ধকোটি টাকার মামলা। মিথ্যা ও প্রতারণা মামলায় আদালতের বারান্দায় দিন পার করছে। সুদের বেড়াজাল থেকে বের হতে না পেরে অনেককে স্বর্ণালংকার, ভিটেমাটি, সহায়-সম্বলহীন হয়ে হারিয়েছে এখন পথের ভিক্ষারী। প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে কোন বিচার পাচ্ছে না ক্ষতিগ্রস্তরা।

খাগড়াছড়ি জেলা সদরের ঠাকুরছড়া বাসিন্দা শতাব্দী ত্রিপুরা স্বর্ণ ও ব্ল্যাঙ্ক চেক দিয়ে প্রিয়া জুয়েলার্সের মালিক সঞ্জীব কুমার বণিকের কাছ থেকে পৌনে তিন লাখ টাকা নেন। কিন্তু সুদে-আসলে প্রথমে তিন লাখ টাকা পরিশোধ করেন। পরে আরো এক লাখ দিয়ে স্বর্ণ ও চেক ফেরত চাইলে গেলে সে টাকা না নিয়ে প্রথমে তার স্বামীকে ২৭ লাখ ৫০ হাজার পরিশোধ করার জন্য উকিল নোটিশ পাঠায় এবং পরে তার স্বামীর নামে ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকার মামলা করেন।

অপর দিকে সুরেন্দ্র ত্রিপুরার স্ত্রী সঞ্জীব কুমার বণিকের কাছ থেকে গৃহীত দুই লাখ ঋণ সুদে-আসলে পরিশোধ করার পরও এখন মাথার উপর ঝুলছে ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার মামলা।

শুধু শতাব্দী ত্রিপুরা ও সুরেন্দ্র ত্রিপুরা নয়, শহরের বলপে পাড়ার মনিকা রানী দাশ, ইসলামপুরের আসমা বেগম ও জেলা সদরের ঠাকুরছাড়ার বিধু ভূষণ ত্রিপুরাসহ শত শত সুদ ব্যবসায়ী সঞ্জীব কুমার বণিকের কবলে পড়ে স্বর্ণালংকার, ভিটেমাটি, সহায়-সম্বলহীন হয়ে হারিয়ে এখন নি:স্ব।

অভিযোগ রয়েছে,স্বর্ণ ব্যবসার আড়ালে সঞ্জীব কুমার বণিক অভিনব কায়দায় সুদের ব্যবসা করেন। তিনি ৭/১০ শতাংশ সুদে সোনা বন্ধক রাখেন। সাথে জমির কাগজ, ব্ল্যাঙ্ক সাদা স্ট্যাম্প ও স্বাক্ষরযুক্ত ব্যাংকের ব্ল্যাঙ্ক চেকের পাতা নিয়ে টাকা দেন। সুদের টাকা সময়মতো পরিশোধ করতে না পারলে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ দিতে হয়। কিন্তু সুদে-আসলে বাড়তি টাকা আদায় করার পর ব্ল্যাঙ্ক চেকে নিজের ইচ্ছে মতো টাকার অংক বসিয়ে প্রথমে উকিল নোটিশ ও পরে আদালতে মামলা করে দেন। সুদের বেড়াজাল থেকে বের হতে না পেরে অনেককে স্বর্ণালংকার, ভিটেমাটি, সহায়-সম্বলহীন হয়ে হারিয়েছে এখন পথের ভিক্ষারী। প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে কোন বিচার পাচ্ছে না ক্ষতিগ্রস্তরা।

সুদী সঞ্জীব কুমার বণিকের কবলে পড়ে অনেকে নি:স্ব হলেও খাগড়াছড়ি জুলেলার্স সমিতির আহবায়ক সঞ্জয় পাল তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অপারকতার কথা জানান।

খাগড়াছড়ি পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অশোক মজুরদার সুদী সঞ্জীব কুমার বণিকের রোষানলে পড়ে অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। সে দুষ্ট প্রকৃতির মানুষ। তার কাছে কেউ নিরাপদ না।

তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে নিজের পক্ষে সাফাই গাইলের সুদী সঞ্জীব কুমার বণিক বলেন, কাউকে টাকা দিয়ে উপকার করা তো দোষেন কিছু না।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো: আনোয়ার সাদাত বলেন, সুদ ব্যবসা বে-আইনী। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খাগড়াছড়ির স্বীকৃত সুদী সঞ্জীব কুমার বণিকের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনী ব্যবস্থা না নিলে আরো অনেকে পরিবার পথের ভিখারী হবে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..