দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় ওসির কক্ষে সিআইডির এক পুলিশ পরিদর্শককে গালিগালাজ, চড়-থাপ্পড় ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মো. মুজিবুর রহমান মুজিবকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) তাকে আদালতে তোলা হয়। ৯ আগস্ট রাতে ঘটনার পর তাকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
মুজিবুর রহমান মজিব দিনাজপুর জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দিনাজপুর শহরের উত্তর বালুয়াডাঙ্গার শেখ ইসমাইল হোসেনের ছেলে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সিআইডি পুলিশ পরিদর্শক নওয়াবুর রহমান বাদী হয়ে রবিবার রাতেই দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় মুজিবুর রহমান মুজিবকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও দুই অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে একটি হত্যা মামলার নথিপত্র সংগ্রহ এবং পূর্ববর্তী তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করতে সিআইডি কর্মকর্তা নওয়াবুর রহমান কোতোয়ালি থানায় যান। রাত ৯টা ৩৮ মিনিটের দিকে তিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কক্ষের সামনে অবস্থানকালে এক ব্যক্তি তার কাছে ওসি কোথায় আছেন জানতে চান।
এ সময় নওয়াবুর রহমান নিজেকে সিআইডি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জানান, একটি মামলার তদন্তের কাজে তিনি থানায় এসেছেন এবং ওসি কোথায় আছেন তা তিনি জানেন না। অভিযোগ অনুযায়ী, এতে ওই ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে প্রতিবাদ করায় সঙ্গে থাকা আরও দুই ব্যক্তির উসকানিতে মুজিবুর রহমান মুজিব সিআইডি পরিদর্শক নওয়াবুর রহমানের ডান গালে সজোরে চড় থাপ্পড় মারেন।
মামলায় আরও বলা হয়, ঘটনার সময় থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে থাকা এসআই মো. মানিক রানা, এসআই মো. মমিনুর রহমান ও কনস্টেবল মো. রফিকুল ইসলামসহ অন্য পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তারা নওয়াবুর রহমানের পরিচয় নিশ্চিত করার পর অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ও পুলিশ পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে অশ্লীল ও মানহানিকর কথাবার্তা বলেন এবং হত্যার হুমকি দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুন্নবী অভিযুক্ত মুজিবুর রহমান মজিব কে থানা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের নাম-ঠিকানা জানান। তবে তার সঙ্গে থাকা অপর দুই ব্যক্তি কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সিআইডি পরিদর্শক নওয়াবুর রহমান জানান, ঘটনার পর তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। চিকিৎসা গ্রহণ এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে মামলা করতে কিছুটা সময় লেগেছে। মামলার সঙ্গে চিকিৎসাপত্রের মূল কপি এবং ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংবলিত একটি পেনড্রাইভও সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নূরনবী বলেন, থানায় দায়িত্ব পালনকালে সিআইডির এক পুলিশ পরিদর্শকের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই পুলিশ পরিদর্শক বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত মুজিবুর রহমানকে রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।