বিয়ারৌং অনাথ আশ্রমের অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে আগামী এক বছরের মধ্যে নতুন ভবন নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খনি রঞ্জন ত্রিপুরা।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে বিয়ারৌং অনাথ আশ্রম পরিদর্শনকালে তিনি এ আশ্বাস দেন। আশ্রমের শিশুদের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তিনি বালক হোস্টেল, বালিকা হোস্টেল, ডাইনিং রুম ও আমবাগান পরিদর্শন করেন এবং আশ্রমের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত হন।
পরিদর্শনকালে খনি রঞ্জন ত্রিপুরা বলেন, “একটি শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু পরিবারের নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রেরও। যেসব শিশু পারিবারিক নানা সীমাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ থেকে বঞ্চিত, তাদের জন্য বিয়ারৌং অনাথ আশ্রম একটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল। এখানে থাকা প্রতিটি শিশু আমাদের সমাজেরই সন্তান। তাদের নিরাপদ আবাসন, মানসম্মত শিক্ষা, পুষ্টিকর খাবার এবং সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।”
তিনি বলেন, অনাথ আশ্রমে বসবাসকারী শিক্ষার্থীরা যেন শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগই না পায়, বরং আত্মমর্যাদা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যৎ জীবন গড়ে তুলতে পারে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য আশ্রমের অবকাঠামো ও শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করার পাশাপাশি শিশুদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণ ও শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে থাকে। বিয়ারৌং অনাথ আশ্রমের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়ে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই।”
আশ্রমের অবকাঠামোগত বিভিন্ন সমস্যা সরেজমিনে দেখার পর খনি রঞ্জন ত্রিপুরা বলেন, বর্তমান ভবন ও আবাসিক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে শিশুদের অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আশ্রমের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিতভাবে অবকাঠামো উন্নয়ন করা জরুরি।
তিনি বলেন, “আগামী এক বছরের মধ্যে বিয়ারৌং অনাথ আশ্রমের অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে শিশুদের আবাসন ও অন্যান্য প্রয়োজন বিবেচনা করে নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।”
খনি রঞ্জন ত্রিপুরা বলেন, শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিভাজন থাকা উচিত নয়। “শিশুরা কোনো দলের নয়, তারা আমাদের ভবিষ্যৎ। তাই তাদের কল্যাণে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা, পারিবারিক অসহায়ত্ব কিংবা সামাজিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো শিশু যেন শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটিই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত,” বলেন তিনি।
তিনি আশ্রমের সার্বিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও সংশ্লিষ্টরা শিশুদের লালন-পালন ও শিক্ষাদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ভবিষ্যতে বিয়ারৌং অনাথ আশ্রমের দিকে আরও মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় বিয়ারৌং অনাথ আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক চন্দ্র কিশোর ত্রিপুরা, কমিটির সহসভাপতি গণেশ চন্দ্র ত্রিপুরা, কোষাধ্যক্ষ মিহির কান্তি ত্রিপুরা ও কার্যনির্বাহী সদস্য পপেন ত্রিপুরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে আশ্রমের দায়িত্বশীলরা প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থা, শিশুদের আবাসন, শিক্ষা কার্যক্রম ও অবকাঠামোগত প্রয়োজনীয়তার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। খনি রঞ্জন ত্রিপুরা বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং আশ্রমের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।