রাজশাহীতে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রতারণা ও পেশাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে ভূমিমন্ত্রী ও রাজশাহী সদর-২ আসনের সংসদ সদস্যের কাছে একটি লিখিত আবেদন পেশ করেছেন রাজশাহীর পেশাদার সাংবাদিকদের একটি পক্ষ।
আবেদনে বলা হয়, সাংবাদিকতার মর্যাদা ও পেশার অপব্যবহার করে কিছু ব্যক্তির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর প্রভাব বিস্তার, সুবিধা আদায় এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার দায় কোনোভাবেই পেশাদার সাংবাদিক সমাজের ওপর বর্তায় না; ব্যক্তিগত অপরাধের দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপরই বর্তাতে হবে।
ভুয়া ও প্রকৃত সাংবাদিকদের পার্থক্য নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এবং স্বীকৃত সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রেস কার্ড ও পরিচয়পত্র যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার যাতে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
রাজশাহী প্রেসক্লাবের বর্তমান ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধ ও বিতর্ক নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে। বিশেষ করে গোলাম মোস্তফা মামুনসহ কয়েকজনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি আবেদনে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।
এছাড়া রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, বিভিন্ন মামলার আসামি হওয়া এবং অতীতে ছাত্র-জনতার ওপর হামলায় জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার নথি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্যের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে নির্দিষ্ট সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে মোটরসাইকেল শোডাউন, চিৎকার-চেঁচামেচি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরির ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন ও সংঘাত তৈরির আশঙ্কার কথা জানানো হয়।
অপ-সাংবাদিকতা মোকাবিলা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় প্রকৃত সাংবাদিকরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা বাধার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) ও পেশাদার সাংবাদিক সংগঠনগুলোর মধ্যে নিয়মিত মতবিনিময় সভা আয়োজন এবং একটি সুস্পষ্ট সমন্বয়ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
উক্ত আবেদনের অনুলিপি বিভাগীয় কমিশনার (রাজশাহী), রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, জেলা প্রশাসক, আরএমপি কমিশনার এবং রাজশাহী মহানগর বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের কাছেও পাঠানো হয়েছে। আবেদনকারীরা মনে করেন, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি পরিচয়ের অপব্যবহার বন্ধ করা গেলে গণমাধ্যমকর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাধারণ মানুষের পারস্পরিক আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।