অষ্টম শ্রেণির পর আর প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা এগোয়নি—এমন দাবি করে আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী সুমনের বিরুদ্ধে সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার অঙ্গনে পরিচয় ব্যবহারের মাধ্যমে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, একসময় দর্জির কাজ এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাপ ধরার পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকা সুমন বর্তমানে দুটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক এবং ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা কেন্দ্র’ (আসক)-এর যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, ‘দৈনিক সকালের পত্রিকা’ ও ‘দৈনিক দিগন্ত সংবাদ’ নামে দুটি অনলাইন পোর্টাল পরিচালনার পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের নামে সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে।
প্রতিনিধি নিয়োগের ক্ষেত্রে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া এবং অনলাইন পোর্টালকে ‘জাতীয় দৈনিক প্রিন্ট পত্রিকা’ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকতার পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা বিভিন্ন ব্যক্তিকে অর্থের বিনিময়ে সংবাদকর্মীর পরিচয়পত্র দেওয়া হচ্ছে।
এতে অটোচালকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকেও সাংবাদিক পরিচয়ে মাঠে নামানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে পেশাদার সাংবাদিকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছেও সাংবাদিকতা পেশার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
অন্যদিকে, ‘আসক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা কেন্দ্র’-এর বিভিন্ন পদ অর্থের বিনিময়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী সুমনের বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, পদায়নের বৈধতা এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
এদিকে সুমনের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, তার বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র নেই। তবে এ দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও নির্বাচন কমিশনের তথ্য যাচাই ছাড়া বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
সাংবাদিক ও সচেতন মহলের কেউ কেউ বলছেন, সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র বা মানবাধিকার সংগঠনের পদ কোনোভাবেই বাণিজ্যের মাধ্যম হওয়া উচিত নয়। কোনো ব্যক্তি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ আদায় করলে কিংবা ভুয়া পরিচয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, অভিযোগগুলো সত্য হলে বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত অনিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মাধ্যমে সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার কার্যক্রমের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুটি ক্ষেত্রের বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা।
তবে আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী সুমনের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।