ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় গ্রামের ঐতিহাসিক একটি পুকুর প্রায় ৪০ বছর ধরে অবহেলায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে পুকুরটি খনন ও সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে চরম পানি সংকটে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় চার দশক আগে সর্বশেষ পুকুরটি খনন করা হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন-নিবেদন এবং সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে পুকুরটি ভরাট হয়ে গেছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে এর পানি ধারণক্ষমতা কমে যায় এবং একপর্যায়ে পুকুরের তলদেশ শুকিয়ে যায়।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, পৌষ-মাঘের শুষ্ক সময়ে পুকুরের পানি শুকিয়ে গেলে গোসলসহ দৈনন্দিন কাজে ব্যবহারের পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। এলাকায় পর্যাপ্ত টিউবওয়েল না থাকায় পানির জন্য দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। অনেক সময় প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহ করতে দূরবর্তী স্থানে যেতে হয় স্থানীয়দের।
দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো সুফল না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তাদের দাবি, ঐতিহাসিক এই পুকুরটি দ্রুত পুনঃখনন ও সংস্কার করা হলে একদিকে যেমন এলাকার পানির সংকট কমবে, অন্যদিকে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে স্থানীয় ঐতিহ্যেরও।
স্থানীয় বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত পুকুরটি পুনঃখনন, সংস্কার এবং পানি সংরক্ষণের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশা, এবার কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হবে।