বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের বাঁচা মেরুং এলাকায় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
“জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সকাল ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ সমাবেশের আয়োজন করে হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল ও জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান। কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করে জাবারাং কল্যাণ সমিতি এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দীঘিনালা।
সমাবেশে গর্ভবতী নারী ও দুগ্ধদানকারী মায়েদের অংশগ্রহণে মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব, নবজাতকের সুস্থ বৃদ্ধি ও বিকাশে এর অপরিহার্য ভূমিকা, জন্মের পরপরই শালদুধ (কলোস্ট্রাম) পান করানোর উপকারিতা, শিশুর জীবনের প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানোর গুরুত্ব এবং ছয় মাস পর উপযুক্ত পরিপূরক খাবারের পাশাপাশি দুই বছর বা তারও বেশি সময় মাতৃদুগ্ধ পান অব্যাহত রাখার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এছাড়া মা ও শিশুর পুষ্টি, স্বাস্থ্যবিধি এবং মাতৃদুগ্ধবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে পরিবার ও সমাজের ভূমিকা সম্পর্কেও সচেতনতামূলক বার্তা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. সাঈদা নাজমীন, এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), সিএমইউ (আল্ট্রা), সহকারী সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দীঘিনালা।
তিনি বলেন, মাতৃদুগ্ধ নবজাতকের জন্য সর্বোত্তম ও নিরাপদ খাদ্য। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি পরিবার ও সমাজের সবাইকে মাতৃদুগ্ধবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সঠিক পদ্ধতিতে শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর কৌশল ও এর বহুমুখী উপকারিতা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাবারাং কল্যাণ সমিতির ফিল্ড কোঅর্ডিনেটর ভূবন ময় চাকমা। সঞ্চালনা করেন একই প্রতিষ্ঠানের ফিল্ড কোঅর্ডিনেটর সরশীষ দেওয়ান।
এ সময় জাবারাং কল্যাণ সমিতির কমিউনিটি নিউট্রিশন প্রমোটার (সিএনপি) সালমা আক্তার, জেলি ত্রিপুরা এবং কনিকা আক্তার উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব, শিশুর সঠিক পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং মায়েদের করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা করেন। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী মায়েদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারী মায়েরা সক্রিয়ভাবে আলোচনায় অংশ নেন এবং মাতৃদুগ্ধ পান করানোর নিজ নিজ অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানের শেষে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য বাস্তবায়নে সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।