খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় ১৮ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী ছেলে প্রান্ত চাকমাকে নিয়ে জরাজীর্ণ ঘরে ১৫ বছর ধরে বসবাস করছেন বিধবা চিকন মেলি চাকমা। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই সন্তানকে নিয়ে শুরু হয় তার একাকী জীবনসংগ্রাম। বর্তমানে ভাঙা ঘরেই মা-ছেলের দিন-রাত কাটছে। বৃষ্টি হলে ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ায় বর্ষাকালে তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
চিকন মেলি চাকমা উপজেলার ১ নম্বর মেরুং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য বোয়ালখালী শান্তিলক্ষ্মী পাড়ার বাসিন্দা। ২০০৭ সালে তার স্বামী মারা যান। তখন ছেলে প্রান্ত চাকমার বয়স ছিল মাত্র সাত মাস। এরপর থেকে প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে একাই সংসারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মা-ছেলে একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছেন। জীবিকার তাগিদে চিকন মেলি চাকমা কখনো জমিতে, আবার কখনো বিভিন্ন স্থানে শ্রমের কাজ করেন। তার সামান্য আয়েই কোনো রকমে সংসার চলে। আর্থিক সংকটের কারণে ঘরটি মেরামত বা নতুন করে নির্মাণ করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
চিকন মেলি চাকমা বলেন, আমি অনেকবার উপজেলা প্রশাসনের কাছে একটি ঘরের জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু এখনো কোনো ঘর পাইনি। প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। সরকার যদি আমাকে একটি ঘর করে দেয়, তাহলে অন্তত নিরাপদে থাকতে পারব।
স্থানীয় বাসিন্দা অয়েচ চাকমা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা ঘরে কষ্টের জীবনযাপন করছেন এই বিধবা নারী। তার স্বামী নেই, সঙ্গে প্রতিবন্ধী সন্তান। আমরা তাকে দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থায় দেখে আসছি।
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন চাকমা বলেন, আমি যখন দশম শ্রেণিতে পড়ি, তখন থেকেই দেখছি তিনি তার প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে এই ভাঙা ঘরে বসবাস করছেন। এত বছর ধরে তারা এখানে থাকলেও এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো সহযোগিতা পাননি। তার জন্য একটি নিরাপদ ঘরের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
প্রতিবেশী কনিকা চাকমা বলেন, চিকন মেলি চাকমা আমাদের গ্রামের অত্যন্ত অসহায় একজন মানুষ। তার স্বামী নেই, জমিতে কাজ করে সংসার চালান। প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে ভাঙা ঘরে খুব কষ্টে আছেন। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করছি সরকার যেন তাকে একটি ঘরে ব্যবস্থা করে দেয়।
আরেক প্রতিবেশী জয়ন্তী চাকমা বলেন, বৃষ্টি হলে ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ে। প্রতিবন্ধী ছেলে প্রান্তকে নিয়ে তখন রাতে ঘুমাতেও পারেন না তিনি। আমরা চাই, তার প্রতিবন্ধী সন্তানের বিষয়টি বিবেচনা করে হলেও তাকে একটি নিরাপদ ঘর দেওয়া হোক।
এ বিষয়ে দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, ইতিমধ্যে তিনি আমাদের কাছে এসেছিলেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করব, যাতে তিনি তার প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে ভালোভাবে থাকতে পারেন।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অসহায় অবস্থায় থাকা চিকন মেলি চাকমার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করে তাকে সরকারি আবাসন সহায়তার আওতায় আনা প্রয়োজন। একটি নিরাপদ ঘর পেলে প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে তার দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।