২০১১ সালের গেজেট অনুযায়ী ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বেতন জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্ত ও বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে ‘বাংলাদেশ গ্রাম পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন’। রবিবার (৯ আগস্ট) বাঁশখালী উপজেলা কমিটির পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর এ সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।এতে স্বাক্ষর করেন ‘বাংলাদেশ গ্রাম পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন’-এর বাঁশখালী থানা কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক এসএম সাইফুল।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সারা দেশের ৪৯৫টি উপজেলার ৪৫৭৪টি ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমানে প্রায় ৪৫,৭১০ জন গ্রাম পুলিশ সদস্য কর্মরত আছেন। সরকারি নির্ধারিত পোশাক পরিধান করে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা ৭২ ধরনের সরকারি দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও তাঁরা মাসে মাত্র ৭,২০০ টাকা বেতন পাচ্ছেন। বর্তমান নিত্যপণ্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে এই সামান্য অর্থ দিয়ে পরিবার চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
সংগঠনটির নেতারা জানান, ২০১১ সালের গেজেট মোতাবেক তাঁরা সরকারি চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী হিসেবে গণ্য হলেও এবং ২০১৮ সালে হাইকোর্ট তাঁদের পক্ষে রায় প্রদান করা সত্ত্বেও তাঁরা কাঙ্ক্ষিত আর্থিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অভাবের কারণে সন্তানদের লেখাপড়া চালানো, এমনকি পরিবার ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের চিকিৎসা ও ভরণপোষণ চালানোও তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্মারকলিপিতে আরও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, অতীতে ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মহাসমাবেশ আয়োজন করে তাঁদের দুটি ঈদ বোনাসের ব্যবস্থা করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারের মেয়াদে আসন্ন বাজেটে গ্রাম পুলিশদের ন্যায্য শ্রমের মূল্য হিসেবে জাতীয় বেতন স্কেল বহাল এবং প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের জোর দাবি জানিয়েছেন গ্রাম পুলিশ সদস্যরা।
উল্লেখ্য পেশাগতভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও গ্রাম পুলিশদের জীবনমান অত্যন্ত নিম্ন। তাই তারা নতুন পেস্কেল সুবিধা প্রাপ্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরকে স্মারক প্রদান করলেন।