বিপুল পরিমাণ রাজস্ব এনে দেয়া সিরাজগঞ্জ বেলকুচি সাব রেজিস্ট্রি অফিসের ভৌত অবকাঠামোর অবস্থা অত্যন্ত করুণ হয়ে পড়েছে । সামান্য বৃষ্টিতেই পুরোনো কোর্ট বিল্ডিংয়ে অবস্থিত এ অফিসটির পুরো প্রাঙ্গণ জলমগ্ন হয়ে পড়ে। ফলে জমি-জমা সংক্রান্ত মূল্যবান সরকারি রেকর্ড নষ্টের আশঙ্কাসহ তীব্র জন ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলকুচির সফল উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. মাসুদ রানা অভিযোগের সাথে এ তথ্য প্রকাশ করেন।
রেজিস্টার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কেবল আগস্ট মাসেই এ অফিস থেকে ৬৯৮টি দলিল রেজিস্ট্রি এবং ৫৬২টি নকললিপি সরবরাহের মাধ্যমেই প্রায় তিন কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়। কিন্তু এতো বিপুল পরিমান রাজস্ব আদায় হলেও অফিসটির ভবন অত্যন্ত জরাজীর্ণ।পুরোনো এ ভবনের মেঝে অত্যন্ত নিচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি সরাসরি অফিসের মেঝেতে প্রবেশ করে । ফলে নাগরিকদের সম্পত্তিসংক্রান্ত স্পর্শকাতর সরকারি রেকর্ডপত্র সুরক্ষিত রাখা মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পানিতে পড়ে গিয়ে মূল্যবান ফাইলপত্র নষ্ট হওয়ার শঙ্কা দিন দিন বেড়েই চলছে।
রেজিস্টার ও সেবা গ্রহীতাদের অভিযোগ, বিপুল পরিমান রাজস্বের যোগান দিলেও বেলকুচির এ অফিসটিতে নেই অন্যান্য নাগরিক সুবিধাও। প্রতিদিন শত শত মানুষ সেবা নিতে আসা নাগরিকদের জন্য নেই পর্যাপ্ত বসার স্থান,স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন এবং নামাজ ঘর। এছাড়া সেবাগ্রাহী মায়েদের জন্যও নেই কোনো ব্রেস্টফিডিং কেন্দ্র।
উন্নয়ন বাজেট বরাদ্দ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানান, তাদের এক মাসের আদায়কৃত রাজস্বের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ (প্রায় ১ কোটি টাকা) ব্যয় করলেই এখানে একটি আধুনিক, বহুতল ও উঁচু ভবন নির্মাণ করা সম্ভব।একটি নতুন ভবনে অন্তত ৫০০ সেবাগ্রহীতার বসার স্থান, নামাজ ঘর, ব্রেস্টফিডিং কর্নার এবং আধুনিক স্যানিটেশন ব্যবস্থার সুযোগ সৃষ্টি করা যায়, তথাপি অবকাঠামো উন্নয়ন বাজেটের প্রতি কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ভবনটির আজ এ অবস্হা।
বেলকুচি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও স্থানীয় জনগন- “জরাজীর্ণ সাব-রেজিস্ট্রি ভবনটিকে অতি দ্রুত একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন ভবনে রূপান্তর করার জোর দাবি জানান। যাতে করে স্হানীয় রাজস্ব প্রদানকারী জনগণ তাদের কাঙ্ক্ষিত ও মানসম্মত সরকারি সেবা পেতে পারে।”