কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে একটি জলমহালের ভোগদখলকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও একজন সাংবাদিকসহ উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পূর্ব অষ্টগ্রামের আখড়াবাজার এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। পরবর্তীতে বিকেল ৩টা পর্যন্ত দফায় দফায় এই সংঘর্ষ চলে।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিলমাকশা জলমহালের ভোগদখল নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহিনের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এরই জেরে শুক্রবার দুপুরে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রণক্ষেত্রে পরিণত হয় আখড়াবাজার এলাকা।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এসময় ইটের আঘাতে অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান ও পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে স্থানীয় এক সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, “দুপুর ২টা পর্যন্ত আমরা ৩০ জনকে চিকিৎসা দিয়েছি। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকজনকে অন্যান্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
ঘটনার বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহিন অভিযোগ করে বলেন, “বিলমাকশা জলমহালটি গত বছর আমি ইজারা নিয়েছিলাম। এবারও আমিই সর্বোচ্চ দরদাতা, কিন্তু উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমদ বিভিন্নভাবে এতে বাধা দিচ্ছেন। আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যর্থ হয়ে জলমহালটি লুটপাটের উদ্দেশ্যে তিনি সাধারণ মানুষকে উসকে দিয়েছেন। এমনকি আজ আমার অনুসারীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমদ বলেন, “শাহিনের সমর্থকেরাই প্রথমে আমার লোকজনের ওপর হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি অশান্ত করেছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।”
অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান জানান, “বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” এই ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।