মা আমার মা
আমার পৃথিবী তুমি
তুমিই আমার দুনিয়া,
তোমার গর্ভে ছিলাম আমি
তোমার মানিক রতন হীরা।
মা আমার মা
দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধরে তুমি
কতো যে কষ্ট-যাতনা সয়ে,
পৃথিবীর আলো দেখিয়েছো তুমি আমায়
কতোটা মৃত্যুযন্ত্রণা লয়ে।
মা আমার মা
রক্তমাখা দেহখানি আমার
চুমু দিলে হাসিমুখে,
ভুলে গেলে সব ব্যথা-বেদনা
মুখখানা আমার দেখে।
মা আমার মা
বাবা বাবা বলে ডাকো
আমি যতোই কাঁদি,
বাবা হয়ে এসেছি আবার
মুখখানা তার মতোনই নাকি!
মা আমার মা
দিনরাত্রি অবিরাম কাঁদি বারবার
সব ফেলে দৌড়ে আসো মা তুমি,
আদর করে সোহাগ করে
বলো সাত রাজার ধন মানিক আমার !
মা আমার মা
দুনিয়ার যতো জ্বালাতন
করি আমি বারে বার,
রাতের ঘুম হারাম করি
খেতেও দিই না কোনো একবার।
হাসিমুখে সব ভুলে যাও মা তুমি
দেখেই চেহারা আমার।
মা আমার মা
দুষ্টুমি আর ডানপিটে আমি বড্ড পাকা
“তোমার বাবা-মা তো এমন ছিল না”
বলে বেড়াও তা পাড়াপড়া।
তবুও মা আমি তোমার কাছে
সাত রাজার ধন
মানিক রতন হীরা।
মা আমার মা
মুখের খাবার ফেলে রেখে
দৌড়ে আসো মা ছুটে,
আমার লেগেছে ক্ষুধা
তাতেই তোমার কলিজায় ব্যথা লাগে।
মা আমার মা
আমার জন্মের পর থেকে
তোমার নেই কোনো আর শখ-হ্লাদ,
আমাকে নিয়েই তোমার সব সুখ
আমার খুশিতে তোমার খুশি
আমাকে নিয়েই তোমার স্বপ্নভরা বুক।
মা আমার মা
অনেক স্বপ্ন তোমার আমাকে নিয়ে
বড় হবো, মানুষের মতো মানুষ হবো,
ঘোচাবো দুঃখ যতো যাতনা আছে বেদনা।
সুখের স্বপ্নে ভাসো তুমি মা
খুশিতে তোমার চোখে ঘুম আসে না।
মা আমার মা
কষ্ট করে অল্প খেয়ে অল্প পরে
জমিয়ে অনেক টাকা,
আমার চাওয়াকে মা তুমি
পূরণ করেছো নিজে কতো কষ্টে থাকিয়া।
মা আমার মা
অসুখের বিষে যদি হই আমি কাতর
তুমিই ডাক্তার, তুমিই নার্স হয়ে করো সেবা
রাতজাগা পাখির মতোন
ঘুমহীন কখন যে হয়ে যায় তোমার ভোর।
মা আমার মা
পাগলের মতো মা করো সর্বক্ষণ
আমিই তোমার জীবনের সব
কেউ নেই আর তোমার আপন,
দুনিয়ার সব বাদে আমি শুধু
তোমার সম্পদ পৃথিবীর চেয়ে অনেক দামি।
মা আমার মা
আঁধার রাতে ভূতের গল্পে কাঁপে বুক
কবিতা আর গান শুনিয়ে করাতে মা চুপ,
তার ভরা আকাশে চাঁদ মামা দেয় উঁকি
কতো যে রাজা-রানীর গল্প বলে
ঘুম পাড়াতো মা, যদি আসতো চোখে ঘুম।
মা আমার মা
সবকিছু উজাড় করে
তুমি মা বেসেছো ভালো আমাকে,
পৃথিবীর সব ভালোবাসা মা তোমার কাছে তুচ্ছ
তোমার কাছে পৃথিবীটাই সবই।
মা আমার মা
দিয়েছি কতো আঘাত, করেছি জ্বালাতন
একটুও মনে রাখো না মা তুমি,
মা বলে ডাকি তাই সব দুঃখ ধুয়েমুছে যায়
করে নাও কতো যে আপন।
মা আমার মা
তোমার আঁচলে মুখ মুছে মা
কতো যে শান্তি কে জানে আর তা,
মাথায় হাত বুলিয়ে চুমু দিতে গালে
তোমার কলিজা আমি মা
আর কেউ কি জানে তা।
মা আমার মা
এখনো গভীর রাতে ঘুমের ঘোরে আসো মোর কাছে
আমার দুঃখে তুমিও কাঁদো মা,
মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করো সোহাগ করো
তুমি আমার সব সময়ই থাকো সাথে।
হঠাৎ করেই আঁতকে উঠি, জেগে দেখি তুমি নেই মোর পাশে!
১৭ই আশ্বিন,১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,গাজীপুর ।