
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়াধীন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় ও খুলনা বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা কার্যালয় কতৃক ২৬ অক্টোবর সোমবার ভোক্তা অধিকারের ৯ টি টিম তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান চলাকালে তারা নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী, চাল, ভোজ্য তেল, গ্যাস, ঔষধ, ডায়াগনস্টিক, আলু, দেশি পেয়াজ, সবজি, মুরগির বাজার ও ডিমের বাজার দর ও ক্রয় ভাউচার যাচাই করা হয় এবং সকল ব্যবসায়ীকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেয়া হয়।
তদারকিকালে সরকার নির্ধারিত মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয় এবং কেউ সরকার নির্ধারিত মূল্যের থেকে বেশি মূল্য নিলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুশিয়ারি দেওয়া হয়। অভিযান কালে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বাজার তদারকি ও জরিমানা করা হয়।
খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক জনাব মোহাম্মদ সেলিম এর নেতৃত্বে খুলনা মহানগরীর সদর থানার নিরালা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য দ্রব্য উৎপাদন করার অপরাধে রূপকথা রেস্টুরেন্ট কে ৩ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। এসময় ১ টি প্রতিষ্ঠান-কে মোট ৩ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব দিনারা জামান এর নেতৃত্বে খুলনা মহানগরীর সদর থানার নিরালা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিরালা সুইটস কে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য দ্রব্য উৎপাদন করার অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় মোট ১ টি প্রতিষ্ঠান-কে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব মোঃ সজল আহম্মেদ এর নেতৃত্বে সদর উপজেলার পরানান্দুয়ালী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স সুরুচি আইসক্রিম কে পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করার অপরাধে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় মোট ০১ টি প্রতিষ্ঠান-কে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয় ।
বাগেরহাট জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক(অ.দা.) জনাব ওয়ালিদ বিন হাবিব এর নেতৃত্বে খুলনা জেলার সদর ও কচুয়া থানার ফতেহপুর ও সাইনবোর্ড বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে রুনা ঢাকা বেকারি কে পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করার অপরাধে ৫ হাজার টাকা এবং অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য দ্রব্য উৎপাদন করার অপরাধে বন্ধুমহল রেস্টুরেন্ট ও সুইটস কে ৫ হাজার টাকা এবং সাতক্ষীরা ঘোষ ডেয়ারি কে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। এ সময় মোট ০৩ টি প্রতিষ্ঠান-কে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক জনাব মোঃ মেহেদী হাসান তানভীরএর নেতৃত্বে আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে শ্রীদুর্গা অয়েল মিল কে মুল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে ২ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। এ সময় মোট ০১ টি প্রতিষ্ঠান-কে ২ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
যশোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব মোঃ সেলিমুজ্জামানের নেতৃত্বে সদর উপজেলার রুপদিয়া ও বিসিক বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুষ্পিতা ফার্মেসি কে পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করার অপরাধে ১ হাজার টাকা এবং আলভি ফুড প্রোডাক্ট কে খাদ্য দ্রব্যে নিষিদ্ধ পণ্যের মিশ্রণ করার অপরাধে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। এসময় ০১ টি প্রতিষ্ঠানকে ১ লক্ষ টাকা জমিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ মামুনুল হাসান এর নেতৃত্বে সদর উপজেলার সদর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঢাকা বিরিয়ানি হাউজ কে অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন করার অপরাধে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। এসময় ০১ টি প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
নড়াইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব শামীম হাসান এর নেতৃত্বে সদর উপজেলার টার্মিনাল বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স মাহমুদা ফুড কে খাদ্য দ্রব্যে নিষিদ্ধ পণ্যের মিশ্রণ ও ওজনে কারচুপি করার অপরাধে ২ হাজার টাকা, মেসার্স পদ্মা বেকারী এন্ড কনফেকশনারি কে ওজনে কারচুপি করার অপরাধে ১০ হাজার টাকা এবং মেসার্স আল-আমীন বেকারি কে ওজনে কারচুপি করার অপরাধে ২ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। এ সময় মোট ০৩ টি প্রতিষ্ঠান-কে ১৪ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
ঝিনাইদহ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব নিশাত মেহের এর নেতৃত্বে সদর উপজেলার গোপিনাথপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলিফ ফুড প্রোডাক্ট কে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদন করার অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। এসময় মোট ০১ টি প্রতিষ্ঠান-কে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয় ।
অভিযানে ১৪ টি প্রতিষ্ঠানকে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয় ।
অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীদেরকে সচেতন করার পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন ও ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি করার নির্দেশনা দেয়া হয়।
জনস্বার্থে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে বলে ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন।