
মোঃ হাচান আল মামুন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি)
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে তিনটি কলেজেই পাসের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক কম। উপজেলার তিন কলেজে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ হাজার ৪৪৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ৩২৯ জন। প্রতিষ্ঠানভেদে পাসের হার ১৫ দশমিক ০৩ থেকে ২৪ দশমিক ০২ শতাংশের মধ্যে।
প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, দীঘিনালা সরকারি কলেজ থেকে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ২২৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ২৯৪ জন। কলেজটির পাসের হার ২৪ দশমিক ০২ শতাংশ। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৭৬ শতাংশই অকৃতকার্য হয়েছেন।
অন্যদিকে, বাবুছড়া কলেজ থেকে ৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৯ জন। কলেজটির পাসের হার ১৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আর কুজেন্দ্র মল্লিকা মডার্ন কলেজ থেকে ১৭৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র ২৬ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১৫ দশমিক ০৩ শতাংশ, যা উপজেলার তিন কলেজের মধ্যে সর্বনিম্ন।
তিন কলেজের ফলাফল তুলনা করলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে দীঘিনালা সরকারি কলেজে। তবে এ কলেজেও প্রতি চারজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে তিনজনের বেশি উত্তীর্ণ হতে পারেননি। অন্য দুটি কলেজের ফলাফলও একইভাবে হতাশাজনক।
এদিকে, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন কলেজ পর্যায়ে পাসের হার ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ। জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পর্যায়ের পাসের হারের তুলনায় দীঘিনালার তিন কলেজের ফলাফল ২৭ থেকে ৩৭ শতাংশ পয়েন্টেরও বেশি পিছিয়ে।
এমন ফলাফলে উপজেলার উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার মান, পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও প্রস্তুতির বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার কারণ অনুসন্ধান এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহলের মতে, শুধু পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনা, দুর্বলতার ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণ এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তা না হলে আগামী বছরগুলোতেও একই ধরনের ফলাফলের আশঙ্কা থেকে যাবে।