
সুপরিচিত কবি-সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, সম্পাদিকা, সাহিত্য-চিন্তক ও ছড়াকার মাধুরী ব্যানার্জীর লেখা অণুগল্প ‘পাওয়া না পাওয়ার গল্প’ পাঠকের সামনে ভালোবাসা, অপেক্ষা, বিচ্ছেদ ও আত্ম-অন্বেষণের এক আবেগঘন আখ্যান তুলে ধরে।
গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র অদিতি। তিন বছর আগে শালবনি স্টেশনে অয়নের সঙ্গে শেষ দেখা হওয়ার পরও সে প্রতিদিন বিকেল পাঁচটার ট্রেনের অপেক্ষায় স্টেশনে এসে দাঁড়ায়। অয়ন ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
অদিতির হাতে থাকা একটি পুরোনো নীল খাম গল্পের রহস্যকে আরও গভীর করে তোলে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর একদিন সে খামটি খুলে অয়নের লেখা একটি চিঠি পড়ে। চিঠিতে অয়ন তাকে নিজের জীবন থামিয়ে না রেখে সুখী হওয়ার আহ্বান জানায়।
চিঠির মাধ্যমে অদিতি উপলব্ধি করে, ভালোবাসা সবসময় কাউকে কাছে পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কখনো কখনো হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কও মানুষের জীবনে গভীর স্মৃতি ও উপলব্ধি রেখে যায়।
গল্পের শেষাংশে অদিতি নিজের ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে আবার সেই স্টেশনে ফিরে আসে। অতীতের অপেক্ষাকে পেছনে ফেলে সে উপলব্ধি করে, অয়নকে খুঁজতে গিয়ে আসলে সে নিজেকেই খুঁজছিল।
মাধুরী ব্যানার্জীর ‘পাওয়া না পাওয়ার গল্প’ ভালোবাসার অপূর্ণতা, অপেক্ষার দীর্ঘশ্বাস এবং নিজেকে ফিরে পাওয়ার অনুভূতিকে সহজ-সরল অথচ আবেগময় ভাষায় তুলে ধরেছে। গল্পটি পাঠককে মনে করিয়ে দেয়—কিছু অপেক্ষার সমাপ্তি প্রিয় মানুষকে ফিরে পাওয়ার মধ্য দিয়ে নয়, বরং নিজের কাছে ফিরে আসার মধ্য দিয়ে ঘটে।