
আসন্ন ভুট্টা চাষের মৌসুম শুরুর আগেই লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় ভেজাল কৃষি উপকরণ ও টিএসপি সারের কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে। নিম্নমানের সার, বীজ ও কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার এবং সরকার নির্ধারিত দামে টিএসপি সার না পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। এতে উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কৃষিপ্রধান এ উপজেলায় প্রতিবছর ধান, আলু, ভুট্টা ও সবজি চাষে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক সার ও কৃষি উপকরণের প্রয়োজন হয়। কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি অনুমোদনহীন কিংবা ভুঁইফোঁড় কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে অধিক ফলন ও কম খরচের প্রলোভন দেখিয়ে নিম্নমানের বীজ ও নামসর্বস্ব কীটনাশক বিক্রি করছেন। এসব ব্যবহারের পর জমিতে আশানুরূপ চারা গজাচ্ছে না এবং পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণেও কোনো কাজ হচ্ছে না।
ফলে মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন প্রান্তিক চাষিরা।ভেজাল উপকরণের পাশাপাশি বর্তমানে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে টিএসপি সারের কৃত্রিম সংকট। ভুট্টা চাষের জন্য জমি প্রস্তুতের এখনই উপযুক্ত সময়, অথচ অনুমোদিত ডিলার পয়েন্টগুলোতে পর্যাপ্ত টিএসপি সার মিলছে না।
ডিলারদের কাছে সার না পেয়ে কৃষকেরা বাধ্য হয়ে খুচরা বাজার থেকে চড়া দামে সার কিনছেন। কৃষকদের আশঙ্কা, বীজ বপনের আগেই যদি সার সংকটে বাড়তি টাকা গুনতে হয়, তবে এ বছর ভুট্টা চাষে লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে পড়বে।
এমন পরিস্থিতিতে পাটগ্রামের সর্বস্তরের কৃষকেরা প্রতিটি ডিলার পয়েন্টে দ্রুত টিএসপি সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা, বাজারে কৃষি উপকরণের মান নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ চাষীরা।