• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন
হেডলাইন:
চাঁদাবাজি মামলায় জামিন পেলেন অগ্রযাত্রার দুই সম্পাদক চারুকলায় বিশেষ অবদান রাখায় ড. মুমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড পেলেন জিয়াউল হক জিয়া ‎খুলনা বিভাগে ১০ জেলায় ভোক্তার অভিযান: ২ লাখ টাকা জরিমানা বৈরাগে চেয়ারম্যান প্রার্থী লোকমান শাহর প্রতিশ্রুতি ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা সীমান্তে পুশ ইন চেষ্টা প্রতিহতের দাবি: নির্দিষ্ট স্থান-সময় প্রকাশ করেনি বিজিবি সোনারগাঁওয়ে বিএনপি নেতা মাসুম বিল্লাহকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিলেন মেম্বারপ্রার্থী নজরুল এমপির বক্তব্য শেষে ইউএনওর হাততালি, নিজেকে বিএনপির লিডার দাবি বেনাপোল বর্ডার দিয়ে ভারত থেকে ৩ জনকে বাংলাদেশে ফেরত কালীগঞ্জে স্ত্রী ও শিশু কন্যাকে হত্যার দায়ে স্বামী রউফ সরদারের মৃত্যুদণ্ড নতুন করে সমাবর্তন ফি নির্ধারণ করল জবি প্রশাসন

রেজিষ্ট্রেশন কার্ড আনতে গিয়ে নিখোঁজ তিন স্কুল ছাত্রী: ৩ দিনেও মেলেনি খোঁজ

মুহাম্মদ এমরান, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি: / ৬২ দেখেছেন
আপলোড : বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

বান্দরবানের লামা উপজেলার ৩ নম্বর ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছার মুখ এলাকা থেকে তিন কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণির রেজিষ্ট্রেশন কার্ড আনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর গত ১১ অক্টোবর থেকে তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

এ ঘটনায় নিখোঁজ কিশোরীদের পরিবারের সদস্যরা লামা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। সন্তানদের ফিরে পাওয়ার আশায় দিন কাটছে তিন পরিবারের সদস্যদের। অন্যদিকে, নিখোঁজের কারণ ও তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে অনুসন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

নিখোঁজ তিন কিশোরী ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তারা হলো, রেশমি আক্তার (১৭), তানিয়া সুলতানা (১৩) ও হালিমাতুচ্ছ সাদিয়া (১৪)। রেশমি আক্তারের বাবা শহিদুল ইসলাম ও মা রোজিনা আক্তার। তাদের বাড়ি ইয়াংছার বনফুর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে।

তানিয়া সুলতানার বাবা আবুল হাশেম ও মা কুলছুমা বেগম। সে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তাদের বাড়ি ইয়াংছারমুখ মুসলিম পাড়ায়। একই এলাকায় বসবাস হালিমাতুচ্ছ সাদিয়ার পরিবার। তার বাবা বেলাল উদ্দিন ও মা শারমিন আক্তার।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ অক্টোবর মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে রেজিষ্ট্রেশন কার্ড আনার কথা বলে তিন কিশোরী একসঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়। রেশমি ৮ম শ্রেনি পর্যন্ত ঐ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। তার রেজিষ্ট্রেশন কার্ড আনার কথা শুনে অন্য দুই কিশোরীও সঙ্গে বের হয়েছিল।

বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তারা একটা সিএনজিতে করে ইয়াংছা বাজারে যায়। পরে সেখান থেকে ২০০টাকা দিয়ে একটি টমটম ভাড়া নিয়ে চকরিয়ার দিকে রওনা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এরপর তারা কোথায় গেছে, কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কি না কিংবা কী কারণে নিখোঁজ হয়েছে, এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন  দামুড়হুদায় ভোক্তা অধিকারের অভিযান: ৩ প্রতিষ্ঠানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা

এদিকে, তিন কিশোরীর নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও। পরিবারের সদস্যরা তাদের দ্রুত সন্ধান ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে সন্তানদের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

কুমারী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) জামিল আহমেদ জানান, নিখোঁজের বিষয়টি জানার পর পুলিশ নিজ উদ্যোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও গণমাধ্যমে বিষয়টি সামনে আসার পর পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও কাজ করছে। তদন্তের স্বার্থে অভিভাবকদের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুফিজ উদ্দিন জানান, গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিক থেকেই ওই শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে অনিয়মিত ছিল। স্থানীয় গণমাধ্যম ও প্রশাসনের মাধ্যমে তিনি তাদের নিখোঁজ হওয়ার খবর জানতে পেরেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অভিভাবক সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বলে জানান তিনি।

তিন কিশোরীর নিখোঁজ হওয়ার প্রকৃত কারণ এবং তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাদের সন্ধানে পুলিশের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজ কিশোরীদের দ্রুত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা করছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..