
ছবি : নিহত শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তে উঠে এসেছে তার কক্সবাজার যাত্রা ও নিখোঁজ হওয়ার আগের কিছু তথ্য। ফেসবুকের মাধ্যমে রাজু চৌধুরী (২০) নামে এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠেছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ওই যুবক কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করেন।
সংশ্লিষ্ট একটি ট্রাভেল এজেন্সির কর্মীর বরাত দিয়ে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে তাজমিন ও এক যুবক কক্সবাজারের একটি কাউন্টার থেকে বাসের টিকিট কাটতে যান। পরদিন বুধবার দুপুরে আইকনিক এক্সপ্রেসের বাসটি কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে ছেড়ে আসে।
সিসিটিভি ফুটেজে বুধবার রাতে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকার হোটেল নূরজাহানের কাছে বাস থেকে তাজমিনকে নামতে দেখা গেছে বলে জানা গেছে। এরপর কুমিল্লা শহরের রেইসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক মো. সুমন মিয়া (৩৫) তাজমিনকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মায়ের সাথে শেষ কথা:
তাজমিনের মা কেয়া খাতুন সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। তখন তাজমিন জানিয়েছিল, সে এক বান্ধবীর সঙ্গে আছে। মেয়েকে নিয়ে আসতে চাইলেও বান্ধবীর নাম ও তার পরিবারের পরিচয় জানতে পারেননি তিনি।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেয়ের চলাফেরা ও বন্ধুত্ব নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ ছিল। তবে ঘটনার দায় নির্ধারণে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা পারিবারিক উদ্বেগ নয়, বরং তদন্তে পাওয়া প্রমাণ ও আইনগত প্রক্রিয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
কিশোরীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন:
তাজমিনের শিক্ষক সাদ বিন এরশাদ জানান, তিনি দীর্ঘদিন তাকে পড়িয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাজমিন কিছুটা চঞ্চল স্বভাবের ছিল, সে তার ছোটো ভাইদের অনেক ভালোবাসতো।
আলোচিত এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তা, অনলাইনে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিপদের সময় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তায় অভিভাবকদের সঙ্গে আস্থাপূর্ণ সম্পর্ক, অনলাইন সচেতনতা এবং নিরাপদে সাহায্য চাওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে অপরাধের দায় ভুক্তভোগীর ওপর না চাপিয়ে অপরাধের তদন্ত, বিচার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
Take care your child @ Every parent