• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন
হেডলাইন:
চাঁদাবাজি মামলায় জামিন পেলেন অগ্রযাত্রার দুই সম্পাদক চারুকলায় বিশেষ অবদান রাখায় ড. মুমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড পেলেন জিয়াউল হক জিয়া ‎খুলনা বিভাগে ১০ জেলায় ভোক্তার অভিযান: ২ লাখ টাকা জরিমানা বৈরাগে চেয়ারম্যান প্রার্থী লোকমান শাহর প্রতিশ্রুতি ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা সীমান্তে পুশ ইন চেষ্টা প্রতিহতের দাবি: নির্দিষ্ট স্থান-সময় প্রকাশ করেনি বিজিবি সোনারগাঁওয়ে বিএনপি নেতা মাসুম বিল্লাহকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিলেন মেম্বারপ্রার্থী নজরুল এমপির বক্তব্য শেষে ইউএনওর হাততালি, নিজেকে বিএনপির লিডার দাবি বেনাপোল বর্ডার দিয়ে ভারত থেকে ৩ জনকে বাংলাদেশে ফেরত কালীগঞ্জে স্ত্রী ও শিশু কন্যাকে হত্যার দায়ে স্বামী রউফ সরদারের মৃত্যুদণ্ড নতুন করে সমাবর্তন ফি নির্ধারণ করল জবি প্রশাসন

বুকফাটা আর্তনাদ ! এক রাতেই নি:শেষ প্রতিবন্ধী কৃষক মনিরুলের স্বপ্ন

মোঃ মিনারুল ইসলাম, দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা)প্রতিনিধি: / ৩১ দেখেছেন
আপলোড : বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে জয় করে কারো কাছে হাত না পেতে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন চুয়াডাঙ্গার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের সুবুলপুর গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী কৃষক মনিরুল ইসলাম। কিন্তু শত্রুর চরম নির্মমতা ও আক্রোশের আগুনে এক রাতেই পুড়ে ছাই হয়ে গেল তাঁর জীবনভর লালন করা সব আশা-আকাঙ্ক্ষা।

​আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর, ২০২৬) সকালে মাঠে গিয়ে কৃষক মনিরুল দেখতে পান, শত্রুতার জেরে কে বা কাহারা রাতের আঁধারে কেটে গুঁড়িয়ে দিয়েছে তাঁর পুরো ১০ কাঠা জমির ফলন্ত আনারকলি বাগান। পরম যত্নে গড়ে তোলা বাগানের প্রতিটি কেটে ফেলা গাছের সামনে বসে মনিরুল ও তাঁর বৃদ্ধা মায়ের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে আশপাশের বাতাস।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও মনিরুল কখনো অন্যের দয়া বা ভিক্ষাবৃত্তির ওপর নির্ভর করতে চাননি। আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচতে তিনি ধার-দেনা ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সুবুলপুর গ্রামে ১০ কাঠা জমি লিজ (বর্গা) নেন। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে চারা রোপণ ও পরিচর্যায় তিনি নিজের মাথার ঘাম পায়ে ফেলেছেন।

সর্বমোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা খরচ করে রোপণ করেছিলেন ‘আনারকলি’ (বিশেষ জাতের পেয়ারা/ফল)। গাছে গাছে প্রচুর ফলও ধরেছিল। বুকভরা আশা ছিল—চলতি মৌসুমেই ফল বিক্রি করে দেনার টাকা শোধ করবেন এবং বৃদ্ধা মা ও পরিবারকে নিয়ে কিছুটা সুখে-শান্তিতে দিন কাটাবেন।

​আজ সকালে প্রতিদিনের মতো বাগানের পরিচর্যা করতে মাঠে যান মনিরুল। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি যা দেখেন, তা মেনে নেওয়ার মতো শক্তি তাঁর ছিল না। চোখের সামনে দেখা মেলে সারিবদ্ধভাবে কেটে মাটিতে ফেলে রাখা ফলন্ত গাছগুলো। এক রাতেই যেন সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।

আরও পড়ুন  পাটগ্রামে ভেজাল কৃষি উপকরণ ও কৃত্রিম টিএসপি সংকট: বিপাকে কৃষক, ভুট্টা মৌসুম নিয়ে শঙ্কা

মাঠের ধুলোয় বসে মাটির কেটে ফেলা গাছগুলো বুকে জড়িয়ে ধরে মনিরুলের বুকফাটা কান্নায় চোখ ভেজাচ্ছেন পথচারী ও আশপাশের কৃষকরাও। পাশে দাঁড়িয়ে কান্না সামলাতে পারছেন না তাঁর বৃদ্ধা মা-ও।

অশ্রুসিক্ত চোখে মনিরুল আকুতি জানান:
“আমি প্রতিবন্ধী মানুষ, কারো কাছে হাত পাতি নাই, নিজে খেটে খাওয়ার জন্য ধার-দেনা করে ১০ কাঠা জমি লিজ নিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করে আনারকলি বাগান করেছিলাম ! ফলও ভালো হয়েছিল! ভেবেছিলাম দেনা মিটিয়ে সংসারটা একটু ভালোভাবে চালাব; কিন্তু শত্রুরা আমার পেটে লাথি মারল! এখন আমি এই ঋণের টাকা দেব কীভাবে? বৃদ্ধা মা আর পরিবার নিয়ে বাঁচব কীভাবে?”

এ ঘটনায় সুবুলপুর গ্রামজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের মতে, ফসলের সাথে শত্রুতা করা মানবতাবিরোধী ও অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। একজন প্রতিবন্ধী মানুষের উপার্জনের একমাত্র সম্বল এভাবে ধ্বংস করে দেওয়া কোনো মানুষের কাজ হতে পারে না।

​এলাকাবাসী ও সাধারণ মানুষ অবিলম্বে এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
​
​একদিকে মাথার ওপর ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার ঋণের বোঝা, অন্যদিকে উপার্জনের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে দিশেহারা মনিরুলের পরিবার। স্থানীয়রা মনে করছেন, এই মুহূর্তে যদি প্রশাসন এবং সমাজের দানশীল ও মানবিক মানুষগুলো মনিরুলের পাশে না দাঁড়ান, তবে এই পরিবারটির পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

​চলুন, এই চরম অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই, অপরাধীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানাই এবং সাধ্যমতো অসহায় ও পরিশ্রমী কৃষক মনিরুলের পাশে সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..