
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পদ্মপুকুর মহানগর এলাকার রওজাতুল জান্নাত বালিকা মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আব্দুর রহমান ও তার স্ত্রী রুবিনা রহমানের বিরুদ্ধে দুই যমজ শিশু শিক্ষার্থীকে মারধর এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠে।এর প্রতিবাদে পাল্টা অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকবৃন্দ ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (২৫অক্টোবর) বিকালে ঝিকরগাছা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে উপজেলা ইমাম পরিষদ ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবক বৃন্দ।
জনাকীর্ণ পৃথক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, উপজেলা ইমাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মুফতি আকবর হোসাইন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় ক্ষেত্রে ত্রুটি বিচ্যুতি থাকতে পারে। কিন্তু যে ধরনের অরুচিকর মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সাংবাদিক পরিচয়ে কতিপয় গণমাধ্যমে যে সংবাদ প্রচারিত হয়েছে তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য পণোদিত মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তিনি যেকোনো সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই পূর্বক গণমাধ্যম কর্মীদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আমরা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
একই স্থানে একই সময়ে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে অত্র মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অভিভাবক বৃন্দ উপস্থিত থেকে অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বক্তব্য রাখেন।
সংবাদ সম্মেলনের সময় অভিযুক্ত ”রওজাতুল জান্নাত বালিকা মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আব্দুর রহমানসহ উপস্থিত ছিলেন,বাস স্ট্যান্ড জামে মসজিদের ইমাম ও উপজেলা ইমাম পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুস শুকুর, সংগঠনের সহ-সভাপতি মাওলানা সদর উদ্দিন, সদস্য মহিবুল্লাহ আল মামুন,সংগঠনের প্রচার ও মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক মুফতি শামীম মাহমুদ, মুফতি ইবাদুর রহমান, মুফতি আজাহারুল ইসলাম, মুফতি রবিউল ইসলাম প্রমুখ।
তবে অভিযুক্ত পরিচালক অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে পরিকল্পিত ও ভিত্তিহীন দাবি করেছেন। এদিকে অভিযোগকারী দুই জমজ শিশু (১০) সন্তানের মা পারুল বেগম অভিযোগের বিষয় অনুশোচনা ও দুঃখ প্রকাশ করে ঝিকরগাছা প্রেস ক্লাবের সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে স্বীকার করে বলেছেন, অন্যের প্রলোভন ও প্ররোচনায় পড়ে তিনি ও তার স্বামী সানোয়ার হোসেন মিথ্যা অভিযোগ করেছিলেন।
পৃথক সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্তের স্ত্রী রুবিনা রহমান ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন,মোছা: সুখ চান বেগম,রেশমা খাতুন, আরিছা বেগম, হাফসা খাতুন, লিপি খাতুন।
উল্লেখ্য ঝিকরগাছা হাসপাতাল রোডে ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত রওজাতুল জান্নাত বালিকা মাদ্রাসাটি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া (বেফাক) বোর্ড, ঢাকার নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান। যার নং ইলহাক-ম-৬/৩৩২০,। মাদ্রাসাটির পরিচালক মাওলানা আব্দুর রহমান শ্রীরামপুর সিদ্দিকীয়া আলিম মাদ্রাসার একজন সহকারী শিক্ষক। তিনি ও তার স্ত্রী রুবিনা রহমান মক্তব বিভাগের শিক্ষক এবং তাদের মেয়ে হাফেজা হাফসা খাতুন হেফজ বিভাগের শিক্ষক। বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে প্রায় ৬৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, যার মধ্যে ১০ জন নন-আবাসিক। আবাসিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক প্রায় ২হাজার ৮০০ টাকা নেওয়া হলেও কেউ কেউ এর চেয়ে কম পরিশোধ করে। এছাড়া কোচিং বাবদ ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হতে শনিবার (২৪ অক্টোবর) সরেজমিনে মাদ্রাসা পরিদর্শনে গেলে জানা যায় দুপুরের খাবারে শিক্ষার্থীদের জন্য ভাত, মিষ্টি কুমড়ার ঘণ্ট ও পাতলা ডাল পরিবেশন করতে দেখা যায়। তবে পরিচালক মাওলানা আব্দুর রহমান দাবি করেন, সপ্তাহে দুই দিন সকালে খিচুড়ি এবং বাকি পাঁচ দিন আলু ভর্তা ও পাতলা ডাল দেওয়া হয়। এছাড়া প্রতিদিন দুপুরে মাছ, মাংস অথবা ডিমের যেকোনো একটি এবং রাতে সবজি ও পাতলা ডাল পরিবেশন করা হয়।ন শিক্ষার্থীর থাকার ব্যবস্থা থাকলেও জায়গাটি তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী দুই যমজ কিশোরীর মা পারুল খাতুন ও পালিত বাবা সানোয়ার মিয়া অভিযোগ করে বলেন, মাদ্রাসার পরিচালক আব্দুর রহমান ও তার স্ত্রী রুবিনা রহমান প্রায়ই তাদের মেয়েদের মারধর করেন। পাশাপাশি পরিচালক তাদের দিয়ে হাত-পা ম্যাসাজ করাতেন এবং শ্লীলতাহানির মতো ঘটনাও ঘটিয়েছেন বলে তারা দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আব্দুর রহমান বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মাদ্রাসার সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এসব অভিযোগ ছড়াচ্ছে।”