হেডলাইন:
নড়াইলে হিন্দু যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার জীবননগরে ১১৮ বোতল উইন-করেক্স সিরাপ জব্দ, পলাতক-১ এইচএসসির ফলে ধস: দামুড়হুদায় পাসের হার ২৪.৫১%, বুড়িচংয়ে মিষ্টির বাজার মন্দা কালিয়ায় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে খুলনার আরএস ফুটবল একাডেমির জয় কামারখন্দে এইচএসসি ২০২৬: সাফল্যের শীর্ষে হাজী কোরাপ আলী কলেজ কালিয়াকৈরে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ: যান চলাচল বন্ধ  থানচি কলেজে এইচএসসির ফলাফলে ধস, শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা নিয়ে অভিভাবকদের তীব্র ক্ষোভ দীঘিনালার তিন কলেজে এইচএসসির ফল বিপর্যয়, পাসের হার ১৫–২৪ শতাংশ দুপচাঁচিয়ায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে শিক্ষিকার মৃত্যু, আহত স্বামী আজ এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ এর ফল প্রকাশ, অপেক্ষায় ১২ লাখ শিক্ষার্থী

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জাতীয়করণ হচ্ছে তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেনের আত্মত্যাগে মিলল রাষ্ট্রের স্বীকৃতি

থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি: / ২০ দেখেছেন
আপলোড : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

বান্দরবানের দুর্গম থানচি উপজেলার তিন্দু ইউনিয়নের তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে থাকা বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন-এর অসাধারণ আত্মত্যাগ ও মানবিক সংগ্রামের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হওয়ার পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপর বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে শিক্ষামন্ত্রীকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি শিগগিরই জাতীয়করণ করা হবে।

জানা গেছে, ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৫৬ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় বিদ্যালয়টি নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছিল। অধিকাংশ শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় নিয়মিত বেতন পরিশোধ সম্ভব হতো না। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দেওয়া এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম সচল রাখা ছিল বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।

এমন কঠিন পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রাখতে এগিয়ে আসেন প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন। ছুটির দিনগুলোতে তিনি থানচি-তিন্দু-রেমাক্রী নৌপথে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালিয়ে পর্যটক ও স্থানীয় যাত্রী পরিবহন করেন। ওই আয় থেকেই শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে সহায়তা করেন। শুধু চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল মাসেই নৌকা চালিয়ে তিনি প্রায় ৪০ হাজার টাকা আয় করেন, যার মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার টাকা সহকর্মীদের বেতন দিতে ব্যয় করেন।

একজন প্রধান শিক্ষকের এমন ব্যতিক্রমী আত্মত্যাগের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে প্রশংসার সৃষ্টি হয়। অনেকেই দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে শিক্ষা টিকিয়ে রাখতে তাঁর এই উদ্যোগকে বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে বিদ্যালয়টির দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে জাতীয়করণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  রূপগঞ্জ আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দিপু ভাই কে (মন্ত্রী)হিসেবে দেখতে চাই / দাউদপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার অনিশ্চয়তা দূর হবে, শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে এবং দুর্গম তিন্দু এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষার আরও বড় সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে এই উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারে সরকারের আন্তরিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত জাতীয়করণের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশা, এর মাধ্যমে শুধু একটি বিদ্যালয়ের সংকটই দূর হবে না, বরং দুর্গম পাহাড়ি জনপদে শিক্ষার আলো আরও শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..