
সেশনজট ও ফলাফল প্রকাশে বিলম্বের কারণে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০২৫ থেকে বঞ্চিত ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফার্মেসি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০২৫ প্রদানের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নিজ নিজ অনুষদে সম্মিলিতভাবে প্রথম স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের এ পদকের আওতায় আনার কথা ছিল। তবে ফার্মেসি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সেশনজটের কারণে তাদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে এবং ফলাফল প্রকাশিত হয় ২০২৬ সালে।
ফলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জীববিজ্ঞান অনুষদের(বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইন্জিনিয়ারিং, ফার্মেসি,ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগ বিজ্ঞান সমন্বয়ে গঠিত) স্নাতকোত্তরে সম্মিলিতভাবে চার বছরের ফলাফল -এ প্রথম স্থান অর্জন করলেও তার নাম প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক তালিকা-২০২৫ থেকে বাদ পড়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক -২০২৫ তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন তিনি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বাবলী সাবিনা আজহারের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেন।
আবেদনে আবদুল্লাহ আল মামুন উল্লেখ করেন, অনার্স পরীক্ষায় ৩.৯০ সিজিপিএ অর্জন করে তিনি বিভাগে প্রথম স্থান লাভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকাশিত ফলাফলের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদকের জন্য শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়।
তার দাবি, ফার্মেসি বিভাগের সেমিস্টার ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা ২০২৫ সালের নভেম্বরে শুরু হয় এবং ফলাফল প্রকাশিত হয় ২০২৬ সালের এপ্রিলে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের ফলাফল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকাশিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা স্বর্ণপদকের জন্য বিবেচিত হলেও ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণে তিনি সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
আবেদনে তিনি আরও বলেন, বিভাগীয় সেশনজট ও প্রশাসনিক কারণে সৃষ্ট বিলম্বের দায় কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের ওপর বর্তানো উচিত নয়। অথচ এসব কারণে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি তার প্রাপ্য সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন।
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বাবলী সাবিনা আজহার এবং ফার্মেসি বিভাগের সভাপতি ড. মাসুদ রানার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। ফলাফল প্রকাশে বিলম্বের কারণ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগীয়-প্রশাসনিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ন্যায়সংগত সমাধান এবং প্রয়োজনীয় প্রতিকার চেয়েছেন তিনি।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক সংক্রান্ত নীতিমালা সময় ও বছরভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে সুযোগ পাওয়ার অনিশ্চয়তার ওপর নির্ভর না করে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসনিকভাবে একটি ন্যায়সঙ্গত সমাধান প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বাবলি সাবিনা আজাহার বলেন, “এখানে সেশনের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি। ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মধ্যে যারা সংশ্লিষ্ট বছরে সালভিত্তিক প্রথম হয়েছেন, তাদেরই নির্বাচিত করা হয়েছে। আব্দুল্লাহ আল মামুন ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের হলেও তাঁর ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে। এ কারণে তিনি এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি।”
এ বিষয়ে ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ বলেন, “এ বিষয়ে আমি একটি চিঠি পেয়েছি। তবে আমি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি মাত্র দুই দিন হলো। তাই বিষয়টি সম্পর্কে সঠিকভাবে জেনে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব।”