• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন
হেডলাইন:
মানবতার সেবায় মোস্তফা হাকিম ব্লাড ব্যাংকের নতুন যাত্রা খুলনায় চাঞ্চল্যকর তুষার হত্যা মামলার আসামি আরিফ গ্রেফতার নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন সংবাদ প্রকাশের পর দৌড়ঝাঁপ: তড়িঘড়ি করে কলেজের চুরি করা জমি ফেরত দেয়ার চেষ্টা অধ্যক্ষের লগি-বৈঠা তাণ্ডবের ২০ বছর: পাটগ্রামে জামায়াতের বিশাল বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা পূর্বধলায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কালীগঞ্জে ডাকাতির ঘটনায় মালামালসহ ২ ডাকাত গ্রেফতার দীঘিনালায় ৭ অসহায় পাহাড়ি পরিবারের মুখে হাসি ফোটাল সেনাবাহিনীর উদ্যোগ মহালছড়ি গৌতম বুদ্ধ বিহারে ৪৭তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত বাঘাইছড়িতে নানা আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

পাঁচ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিয়েও মেধাবী ছাত্র জয়কে জীবিত পেল না তার পরিবার

বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি : / ৬৯ দেখেছেন
আপলোড : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬

ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কোচিং করতে এসে নিখোঁজ হওয়ার ১৫ দিন পর টাঙ্গাইলের গোপালপুরের হেমনগরের সন্তান জয়-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় নীলফামারীতে মাটির নীচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

রাকিব হাসান জয়(১৮) ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রস্তুতির জন্য ঢাকায় এসে ফার্মগেট এলাকা থেকে তিনি নিখোঁজ হন। পরিবারের অভিযোগ, অপহরণকারীরা মুক্তিপণ দাবি করলেও তা দেওয়ার পরও জয়কে হত্যা করা হয়।

জয়ের মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে তার পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

মঙ্গলবার ঢাকার একটি তদন্তকারী দলের সহায়তায় ওই গ্রামের একটি বাড়ির মাটির নিচ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত জয় টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের দাদীর আটা গ্রামের খাদেমুল ইসলামের ছেলে। তিনি ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এ+ পেয়ে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতির জন্য ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ফার্মগেট এলাকা থেকে নিখোঁজ হন জয়। নিখোঁজের পর অপরিচিত এক যুবক জয়ের নম্বর ব্যবহার করে তার বাবার হোয়াটসঅ্যাপে জয়ের চোখ-মুখ বাঁধা ও নির্যাতনের ছবি পাঠায়। এ সময় ১৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে জয়কে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

ছেলেকে বাঁচানোর আশায় দরিদ্র কৃষক বাবা খাদেমুল ইসলাম ধারদেনা ও সুদে টাকা নিয়ে ১৩টি বিকাশ নম্বরে মোট পাঁচ লাখ টাকা পাঠান। টাকা পাওয়ার পর ওই নম্বরগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর জয়ের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় জয়ের পরিবারের অভিযোগের পর তদন্তে নামে পুলিশ। পুলিশ জানায়, প্রায় এক মাস আগে রাকিব ও মামুনের পরিচয় হয়। পরে কোনো একটি বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ হয়। এর জেরে রাকিবকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে মামুন রাকিবের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি ডিমলার ছাতনাই ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামে নিয়ে আসেন। সেখানে মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে আবার ঢাকায় ফিরে যান।

আরও পড়ুন  কাঠালিয়ার তোতা মিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হলেন বিএনপি নেতা শাহিন

পরে ঢাকায় গিয়ে রাকিবের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। একপর্যায়ে ঢাকার শুক্রাবাদ এলাকা থেকে মামুন রহমান (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিমলার বালাপাড়া গ্রামে মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার বিষয়টি জানা যায়। পরে ঢাকার একটি তদন্তকারী দল সেখানে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল আলম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। গ্রেপ্তার মামুনকে ঢাকার তদন্তকারী দলের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

জয়ের বাবা খাদেমুল ইসলাম বলেন, “মুক্তিপণ দিয়েছিলাম ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায়। টাকা দিয়েও ছেলেকে জীবিত পেলাম না। আমি খুনির ফাঁসি চাই।”

জয়ের মা জোহুরা বেগম এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি বলেন, “আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত ফাঁসি চাই।”

জয়ের মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে তার গ্রামের বাড়ি গোপালপুরের দাদীর আটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের মাতম।
জয়ের মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে তার পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন স্বজনসহ স্থানীয়রা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..