
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক সালিশ বৈঠকে জোরপূর্বক টিপসই নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কুরেরপাড় গ্রামের মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. আঃ হামিদ (৬০)—যিনি পৈত্রিক সূত্রে পূর্বধলা গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে ধর্মপাশার কুরেরপাড় এলাকায় বসবাস করছেন—তার মামাবাড়ির সূত্রে বিআরএস ৩১১৬ নম্বর দাগ এবং হাল ৪৬ নম্বর দাগে মোট ২৩ শতাংশ জমির বৈধ মালিক। ওই জমিতে তিনি বসতঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ বসবাস করে আসছিলেন।
অভিযোগে প্রকাশ, কিছুদিন পূর্বে আঃ হামিদ তার ভাগিনা জজ মিয়ার নিকট থেকে ১৫,০০০ (পনেরো হাজার) টাকা ধার নেন এবং জজ মিয়াকে বসতঘরে থাকার সুযোগ দিয়ে তিনি পূর্বধলায় নিজের বাড়িতে চলে যান। পরবর্তীতে নিজের প্রয়োজনে উক্ত জমি বিক্রির কথা ছিল। কিন্তু এর মধ্যেই ভাগিনা জজ মিয়া মামার অনুমতি ছাড়াই গোপনে ওই জমি বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই জালিয়াতি ও জমি আত্মসাতের বিষয় নিয়ে সম্প্রতি উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বিকেলে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের জন্য একটি সালিশ বৈঠক বসে।
সালিশ চলাকালে আঃ হামিদের ওপর জোরপূর্বক স্ট্যাম্প বা কাগজে টিপসই নেওয়ার পাঁয়তারা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। টিপসই নেওয়ার হুমকির মুখে পড়ে জীবন ও সম্মানের আশঙ্কায় আঃ হামিদ তাৎক্ষণিকভাবে সালিশ বৈঠকস্থল ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে চলে যান।
ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় থাকা আঃ হামিদের স্ত্রী লাক চাঁন (৬৫),পিতা: মৃত সুজন আলী, সাং: কুরেরপাড়,বর্তমানে কুরেরপাড় এলাকার নিজ বাড়িতে রাতে অবস্থান করছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারটি এ ঘটনার সুষ্টু তদন্ত সাপেক্ষে আইনি সহায়তা এবং তাদের আত্মসাৎকৃত জমি ও বসতঘরের দখল ফিরে পাওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।