
নিপীড়নের শিকার শিশু দুটির বাবা নেই এবং মা অন্যত্র বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। অসহায় ও এতিম হিসেবে দেখার কেউ না থাকায় এই বছরের প্রথম দিকে তাদের মা শিশুদেরকে ওই মাদ্রাসার আবাসিক শাখায় ভর্তি করিয়েছিলেন। ঘটনার বিষয়ে ১১ বছর বয়সী শিশুরা জানায়, মাঝে মাঝে বিকেলে নীচতলায় হুজুরের রুমে আমাদের দুই বোনকে আলাদা আলাদা সময়ে গা, হাত-পা টিপে দেওয়ার জন্য ডাকত। এ সময় হুজুর আমাদের জামার ভেতর আবার পায়জামার ভেতর হাত দিত। কাউকে বললে মেরে হাউজের মধ্যে ফেলার হুমকি দিত। বলতো, তোর মা-বাবা খুজতে আসলে বলবো, তোরা চলে গিয়েছিস।
বাচ্চা দুটির মা দুঃখ এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাবা মারা যাওয়ায় দেখার কেউ না থাকায় এতিম হিসেবে মেয়ে দুটিকে ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করি। মেয়েরা মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে আসলে আর যেতে চাইত না। জিজ্ঞেস করলেও কিছু বলত না। কিন্তু এবার তারা জানিয়েছে, হুজুরের গা, হাত-পা টেপানোর জন্য মেয়েদের আলাদা সময়ে ডাকত। এ সময় তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাত দিত। একবার মেয়েকে জোর করে জাপটে ধরে শুইয়ে দিয়েছিল। মেয়ে জোর খাটিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে বের হয়ে এসেছিল। এই ঘটনা কাউকে বললে তাদেরকে জানে মেরে ফেলার ভয় দেখাত। এর আগে একবার বাচ্চা দুটিকে কোচিং না করার অভিযোগে প্রচুর মেরেছিল। কিন্তু আমরা গরিব মানুষ, আর মেয়েকে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে এনে খাওয়াব কী—এই চিন্তায় কিছুই বলিনি। কিন্তু এখন যে ঘটনা ঘটেছে, আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আব্দুর রহমান সব তথ্য অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মাদ্রাসার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য এসব রটাচ্ছে। পৃথক একটি ঘটনায় গত ২১ অক্টোবর তিনি ঐ শিক্ষার্থীদের পালক পিতার বিরুদ্ধে ঝিকরগাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে জানতে ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কিবরিয়াকে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা বলেন, একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এতিম শিশুদের ওপর এ ধরনের যৌন নিপীড়নের ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও উদ্বেগজনক। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী পরিচালককে অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানান তারা।