
সুপরিচিত কবি-সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, সম্পাদিকা, ছড়াকার ও কণ্ঠশিল্পী মাধুরী ব্যানার্জীর লেখা অণুগল্প ‘অদ্ভুত শূন্যতা’ পাঠকের হৃদয়ে মাতৃস্মৃতি, বিচ্ছেদ ও ভালোবাসার এক আবেগঘন অনুভূতি জাগায়
গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র অরুণ। মায়ের মৃত্যুর পর পরিচিত বাড়িটিই তার কাছে অচেনা ও বিস্তৃত মনে হয়। প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাস, রান্নাঘর, চায়ের কাপ আর মায়ের কণ্ঠস্বরের স্মৃতি তাকে গভীর শূন্যতার মধ্যে ডুবিয়ে রাখে।
এক রাতে রান্নাঘর থেকে কাপ রাখার শব্দ শুনে অরুণের মনে রহস্য ও ভয় তৈরি হয়। মায়ের পুরোনো কাপ বারবার টেবিলে ফিরে আসে। শেষ পর্যন্ত কাপের নিচে মায়ের হাতের লেখা একটি ছোট কাগজ খুঁজে পায় সে—“তুই খুব একা হয়ে গেছিস বাবা। নিজের সঙ্গে কথা বলতে শিখিস।”
এই বাক্যের মধ্য দিয়ে অরুণ উপলব্ধি করে, মায়ের ভালোবাসা ও শিক্ষা মৃত্যুর পরও তার জীবনে থেকে গেছে। শোকের গভীরতা পেরিয়ে সে নিজের ভেতরে নতুনভাবে বেঁচে থাকার শক্তি খুঁজে পায়।
‘অদ্ভুত শূন্যতা’ গল্পে লেখক দেখিয়েছেন, প্রিয়জনকে হারানোর শূন্যতা কেবল বিচ্ছেদের অনুভূতি নয়; কখনো কখনো সেই শূন্যতাই মানুষের ভেতরের স্মৃতি, শিক্ষা ও ভালোবাসার দরজা খুলে দেয়।