
আপনার সন্তান কোথায় যায়, সে বিষয়ে খোঁজ রাখুন।সে কাদের সাথে মিশছে, সেদিকে সতর্ক নজর দিন।বর্তমানে পত্রিকার পাতা খুললেই নানা দুঃখজনক ঘটনার চিত্র চোখে পড়ে, যেগুলোর জন্য কোনো মা-বাবাই প্রস্তুত থাকেন না। অভিভাবকরা কখনোই ভেবে থাকেন না যে এমন একটি দুঃসংবাদ এসে পুরো পরিবারকে অন্ধকার অমাবস্যায় নিমজ্জিত করতে পারে। প্রতিটি মা-বাবাই সন্তানকে ঘিরে অনেক আশা ও স্বপ্ন বুনে থাকেন—এটিই স্বাভাবিক। কিন্তু সামান্য অসচেতনতা বা ভুলের কারণে সেই কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন ধূলোয় মিশে যেতে পারে।
আমাদের সমাজের কিছু হিংস্র হায়না আপনার সন্তানকে বিপথে চালিত করতে পারে। সন্তান যদি একবার অপরাধ বা অন্ধকারের গলিতে পা বাড়ায়, তবে তাকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
তাই ব্যস্ততার মাঝেও আপনার সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দিন। প্রতিদিনের প্রতিটি মুহূর্তের খোঁজখবর রাখুন—সে ঠিকমতো পড়ালেখা করছে কি না, নিয়মিত স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছে কি না, সেদিকে সচেতন থাকুন।
সন্তানের হাতে বয়সের আগেই দামী মোবাইল ফোন তুলে দেবেন না। এই দামী মোবাইল ফোনটিই হয়তো তার জীবনের জন্য বড় কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে। একটি ফুলের মতো নিষ্পাপ শিশুকে সামান্য একটি মোবাইলের লোভে পড়ে জীবন পর্যন্ত দিতে হতে পারে। আপনার তিল তিল করে গড়ে তোলা সন্তানের ভবিষ্যৎ টুকরো টুকরো কাঁচের মতো ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে পারে ওই সব হিংস্র হায়নার দল।
মনে রাখবেন, আপনি বা আপনার সন্তান যাদের অন্ধের মতো বিশ্বাস করেন, তাদের দ্বারাও প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই অভিভাবক হিসেবে আপনার সর্বোচ্চ সচেতনতাই পারে আপনার সন্তানকে এই সকল বিপদের থাবা থেকে সুরক্ষিত রাখতে। আসুন, কোনো ফুটফুটে ফুলের মতো শিশুকে যেন আমরা আর অকালে হারিয়ে যেতে না দিই।
মো: গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী