• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ন
হেডলাইন:
বুড়িচংয়ে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে পরিবহনে তল্লাশি; আটক-৩ রাজপথ থেকে Wrexham University’র মঞ্চ, MSc অর্জনের পরও ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে তানভীর প্রেম দ্রোহের কবি রবি ডাকুয়ার সাড়া জাগানো কবিতা – “এখনই থেমে গেলে কেন?” সার বিক্রিতে অনিয়ম, ডিলারকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা মাগুরায় বিএনপি নেতা মশিউর হত্যা মামলায় সাবেক ওসি বিপ্লব গ্রেপ্তার মানবতার সেবায় মোস্তফা হাকিম ব্লাড ব্যাংকের নতুন যাত্রা খুলনায় চাঞ্চল্যকর তুষার হত্যা মামলার আসামি আরিফ গ্রেফতার নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন সংবাদ প্রকাশের পর দৌড়ঝাঁপ: তড়িঘড়ি করে কলেজের চুরি করা জমি ফেরত দেয়ার চেষ্টা অধ্যক্ষের লগি-বৈঠা তাণ্ডবের ২০ বছর: পাটগ্রামে জামায়াতের বিশাল বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা

সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য : মাধুরী ব্যানার্জীর অণুগল্প- অন্তর্লীন অনুরণন

বিশ্বজিৎ: / ২৪ দেখেছেন
আপলোড : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬

সুপরিচিত কবি, কথা-সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট, গল্পকার, সম্পাদিকা, ঔপন্যাসিক, কণ্ঠশিল্পী ও ছড়াকার মাধুরী ব্যানার্জীর লেখা অণুগল্প :

 

অন্তর্লীন অনুরণন
– মাধুরী ব্যানার্জী

 

শহরের এক প্রান্তে পুরোনো একটি বাড়ি। বাড়িটির জানালায় সারাদিন রোদ পড়ে, অথচ ঘরের ভেতরটা যেন সবসময় একটু অন্ধকার। সেই বাড়িতেই একা থাকত অরুণিমা।বাইরের মানুষ তাকে দেখলে বলত, “মেয়েটা বড় শান্ত!”
কিন্তু কেউ জানত না, সেই শান্ত মুখের আড়ালে কত কথার ঢেউ প্রতিদিন আছড়ে পড়ে।

অরুণিমার অভ্যাস ছিল রাতে ঘুমোবার আগে পুরোনো ডায়েরিটা খুলে বসা। ডায়েরির পাতায় লেখা থাকত ছোট ছোট বাক্য—
“সব কথা বলা যায় না।”
“কিছু মানুষ দূরে গিয়েও থেকে যায়।”

“কিছু শব্দ কানে শোনা যায় না, শুধু মনে বাজে।”
একদিন ডায়েরির শেষ পাতায় সে লিখল—
“যদি কোনোদিন কেউ আমার না-বলা কথাগুলো পড়তে পারে, তবে সে-ই বুঝবে আমাকে।”
তারপর ডায়েরিটা বন্ধ করে জানালার পাশে রেখে দিল।

পরদিন সকালে ডাকপিয়ন একটি চিঠি দিয়ে গেল। প্রেরকের নাম নেই। কাঁপা হাতে খাম খুলে অরুণিমা দেখল, মাত্র একটিই বাক্য—
“তুমি যা বলতে পারোনি, আমি তা শুনেছি।”
অরুণিমার বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠল।
চিঠির সঙ্গে ছিল একটি পুরোনো শুকনো শিউলি ফুল।

সে ফুলটি চিনতে পারল। বহু বছর আগে স্কুলের শেষ দিনে, তার প্রিয় শিক্ষক অনিরুদ্ধ স্যার তাকে বলেছিলেন—
“অরুণিমা, মানুষের সবচেয়ে গভীর কথাগুলো সবসময় শব্দ হয়ে বেরোয় না। কখনও কখনও নীরবতাই সবচেয়ে জোরে কথা বলে।”
সেদিনের পর স্যার অন্য শহরে চলে গিয়েছিলেন।
অরুণিমা চিঠিটা আবার পড়ল। তারপর বহুদিন পর ডায়েরির পাতাগুলো উল্টাতে উল্টাতে থেমে গেল একটি পুরোনো পাতায়।

সেখানে লেখা—
“আজ স্যার বললেন, নিজের কণ্ঠকে কখনও হারিয়ে ফেলিস না। একদিন তোর লেখা অন্য কারও নীরবতার ভাষা হবে।”
হঠাৎ অরুণিমার মনে হলো, এতদিন সে নিজের ভেতরের শব্দগুলোকে শুধু জমিয়ে রেখেছে। কাউকে শোনায়নি।

সেদিনই সে সিদ্ধান্ত নিল—ডায়েরির পাতাগুলো আর বন্ধ থাকবে না।
সে নিজের লেখা নিয়ে একটি ছোট পত্রিকায় পাঠাল। কয়েক সপ্তাহ পর সেই লেখা প্রকাশিত হলো।
লেখাটির শিরোনাম ছিল— ‘অন্তর্লীন অনুরণন’।
প্রকাশের দিনই অরুণিমার কাছে আরেকটি চিঠি এল।

খাম খুলে সে দেখল, অনিরুদ্ধ স্যারের হাতের লেখা।
“তোর লেখা পড়লাম। তুই অবশেষে নিজের কণ্ঠ খুঁজে পেয়েছিস। মনে রাখিস, সত্যিকারের শব্দ কখনও হারিয়ে যায় না। মানুষের হৃদয়ের গভীরে তারা অনুরণন হয়ে থেকে যায়।”

চিঠিটা বুকে চেপে অরুণিমা জানালার পাশে দাঁড়াল।
বাইরে তখন শিউলি ঝরছে।
কেউ কাছে নেই, তবু তার মনে হলো—দূর কোথাও থেকে একটি পরিচিত কণ্ঠ যেন বলছে,
“শুনতে পাচ্ছিস তো?”
অরুণিমা মৃদু হেসে উত্তর দিল,
“হ্যাঁ স্যার, এবার আমি নিজের ভেতরের সেই শব্দটাও শুনতে পাচ্ছি।”

সেদিন প্রথমবার তার ঘরটা আর নীরব মনে হলো না।
কারণ কিছু অনুরণন শব্দের বাইরে জন্ম নেয়—
আর হৃদয়ের গভীরে, নিঃশব্দেই, বেঁচে থাকে।

আরও পড়ুন  যাঁকে ভালোবাসা ছাড়া মুমিন হওয়া যায় না ! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..