• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন
হেডলাইন:
রাজপথ থেকে Wrexham University’র মঞ্চ, MSc অর্জনের পরও ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে তানভীর প্রেম দ্রোহের কবি রবি ডাকুয়ার সাড়া জাগানো কবিতা – “এখনই থেমে গেলে কেন?” সার বিক্রিতে অনিয়ম, ডিলারকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা মাগুরায় বিএনপি নেতা মশিউর হত্যা মামলায় সাবেক ওসি বিপ্লব গ্রেপ্তার মানবতার সেবায় মোস্তফা হাকিম ব্লাড ব্যাংকের নতুন যাত্রা খুলনায় চাঞ্চল্যকর তুষার হত্যা মামলার আসামি আরিফ গ্রেফতার নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন সংবাদ প্রকাশের পর দৌড়ঝাঁপ: তড়িঘড়ি করে কলেজের চুরি করা জমি ফেরত দেয়ার চেষ্টা অধ্যক্ষের লগি-বৈঠা তাণ্ডবের ২০ বছর: পাটগ্রামে জামায়াতের বিশাল বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা পূর্বধলায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

দুর্গাপূজার মণ্ডপে শিল্প-ঐতিহ্যের ছোঁয়া, নজর কাড়ছে ব্যতিক্রমী সাজসজ্জা

সাধন সাহা জয় ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: / ৭৫ দেখেছেন
আপলোড : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬

কোথাও সোনালি আঁশ পাটের নান্দনিক ব্যবহার, কোথাও টেরাকোটায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পৌরাণিক কাহিনি। আবার কোনো মণ্ডপে স্থান পেয়েছে তালপাতার পাখা ও গাজীর পটের মতো বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকজ শিল্প। দেবী দুর্গার আরাধনার পাশাপাশি বাঙালির শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন এবারের শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোতে এনেছে ভিন্ন মাত্রা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে এবার প্রতিমার সৌন্দর্যের পাশাপাশি মণ্ডপসজ্জায় ফুটে উঠেছে শিল্পীদের সৃজনশীলতা ও নান্দনিক চিন্তার প্রতিফলন। বিশেষ করে জেলা সদরের কয়েকটি মণ্ডপে ঐতিহ্যবাহী শিল্পমাধ্যমের ব্যবহার দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

পৌর এলাকার রামঠাকুর ক্লাবের মণ্ডপে দেবী দুর্গার চিরচেনা রূপের পেছনে টেরাকোটার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মহিষাসুর বধের পৌরাণিক কাহিনি। মাটির ফলকে নিপুণ কারুকাজে তুলে ধরা হয়েছে পুরাণের আখ্যান। এতে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতার এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ কালীবাড়ির মণ্ডপসজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সোনালি আঁশ পাট। পরিচিত এই প্রাকৃতিক উপকরণকে শিল্পের মাধ্যমে নতুনভাবে উপস্থাপন করে বাংলার ঐতিহ্যকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন আয়োজকেরা।
এ ছাড়া বিভিন্ন মণ্ডপে স্থান পেয়েছে গ্রামবাংলার লোকজ শিল্প। তালপাতার পাখা ও গাজীর পটের মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্পমাধ্যমের ব্যবহার মণ্ডপসজ্জায় যোগ করেছে ভিন্নমাত্রা। ধর্মীয় উৎসবের আবহের সঙ্গে বাংলার লোকজ সংস্কৃতির এমন মেলবন্ধন দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সন্দিপন পাল বাবন বলেন, “পৌর এলাকায় এবারের পূজার সাজসজ্জায় ভিন্নতা এসেছে। বিভিন্ন মণ্ডপে নানা ধরনের থিম নিয়ে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। এক কথায়, অসাধারণ সব আয়োজন।”

রামঠাকুর আশ্রমের শৈল্পিক কাজের সঙ্গে যুক্ত চিত্রশিল্পী দীপ্ত মোদক বলেন, “আমরা টেরাকোটার মাধ্যমে অসুর বধের কাহিনি ফুটিয়ে তুলেছি। পুরো কাজটিই মাটির তৈরি। আশা করছি, দর্শনার্থীদের কাছে আমাদের এই আয়োজন ভালো লাগবে।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহসভাপতি সঞ্জীব সাহা বাপ্পী জানান, এ বছর জেলায় মোট ৬২৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় ৫০টি বেশি। জেলা সদরের বেশ কয়েকটি মণ্ডপে এবার নতুনত্ব ও ব্যতিক্রমী সাজসজ্জা দেখা যাচ্ছে।

এদিকে, দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণে সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বিজিবির রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী। পাশাপাশি জেলা সদরের একাধিক পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী।

সব মিলিয়ে, এবারের দুর্গাপূজায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মণ্ডপগুলোতে ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি বাংলার শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বৈচিত্র্যময় উপস্থাপন উৎসবকে দিয়েছে বাড়তি আকর্ষণ। প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি মণ্ডপসজ্জার শৈল্পিক নিদর্শন দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।

আরও পড়ুন  ​পাটগ্রামে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন..