
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত চট্টগ্রাম কলেজ শিক্ষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সাফল্যের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ মর্যাদা বহন করে আসছে। প্রায় ১৭ একরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা সবুজ-শ্যামল ক্যাম্পাস, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, জিমনেসিয়াম, সুবিশাল মসজিদ, শতবর্ষের ইতিহাস ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ কলেজটিকে দেশের অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে।
তবে চট্টগ্রাম কলেজের এমন একটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা সচরাচর অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেখা যায় না। প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর কলেজ মসজিদে আবাসিক ছাত্র, শিক্ষক, কর্মচারী ও মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে হাদিসের দারস প্রদান করেন কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম চৌধুরী।
ভোরের নীরব পরিবেশে মসজিদটি যেন আরেকটি শ্রেণিকক্ষে পরিণত হয়। এখানে কোরআন-সুন্নাহর আলোচনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন, অধ্যয়ন, শৃঙ্খলাবোধ, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা প্রদান করা হয়। মসজিদের ইমাম এবং কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকগণও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন, যা শিক্ষার্থীদের মাঝে আগ্রহ ও ইতিবাচক চিন্তার সৃষ্টি করে।
আজকের ব্যস্ত ও প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থায় এই উদ্যোগটি একটি অনন্য সংযোজন। যেখানে অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিনের সূচনা হয় একাডেমিক ব্যস্ততায় সেখানে চট্টগ্রাম কলেজের অনেক শিক্ষার্থীর দিন শুরু হয় ধর্মচর্চা, মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে। এই পরিবেশ শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফল অর্জনের দিকেই নয়, বরং একজন সৎ ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতেও অনুপ্রাণিত করে।
একজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রদানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা শিক্ষার পরিবেশে ইতিবাচক বার্তা বহন করে। এটি প্রমাণ করে যে শিক্ষা কেবল পাঠ্যপুস্তক ও ক্লাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; নৈতিক বিকাশ, মানবিক মূল্যবোধ ও ধর্মপালনও শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
চট্টগ্রাম কলেজ মসজিদকে ঘিরে আরেকটি উল্লেখযোগ্য আয়োজন হলো রমজান মাসের ইফতার। গত দুই বছর ধরে অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও মসজিদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ মজিবুলহক সহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের উদ্যোগে রমযানের ২০তম রোযা পর্যন্ত মসজিদে সকল শিক্ষার্থীদের জন্য ইফতারের আয়োজন করা হচ্ছে। আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে ইফতারে অংশ নেওয়ার সুযোগ পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। এই উদ্যোগ চট্টগ্রাম কলেজের ঐতিহ্যের সাথে যুক্ত করেছে আরেকটি প্রোজ্জ্বল অধ্যায়।
শিক্ষার সাথে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ সম্পন্ন যে শিক্ষাব্যবস্থার স্বপ্ন আমরা দেখি, চট্টগ্রাম কলেজ যেন তারই সুন্দর প্রতিচ্ছবি। দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও এমন ইতিবাচক উদ্যোগ থেকে অনুপ্রেরণা নিতে পারে–যেখানে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষাও সমান গুরুত্ব পায়।
চট্টগ্রাম কলেজের এই ব্যতিক্রমী ও ইতিবাচক আবহ অনাগত দিনগুলোতে অব্যাহত থাকুক এবং এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হোক—এই প্রার্থনা করি মহান আল্লাহ তাআলার কাছে।
লেখক পরিচিতি
এহছানুল করিম ইয়াছিন
সেশনঃ ২০২১-২২, বর্ষঃ ৪র্থ
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম কলেজ।