
বান্দরবানের লামা উপজেলার ইয়াংছা-বধুরঝিরী এলাকায় বিদ্যুতের প্রধান লাইনের নিরাপত্তার স্বার্থে দুটি ছোট সেগুনগাছ কেটেছে বিদ্যুৎ অফিসের কর্মীরা। তবে গাছ কাটার পর কাটা ডালপালা থেকে লাকড়ি সংগ্রহকে কেন্দ্র করে কয়েকজন নারীর মধ্যে তর্কবিতর্কের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জেরে সংশ্লিষ্ট নারীদের স্বামীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। মামলাটিকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করেছেন গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত বিদ্যুৎ অফিসের কর্মীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কয়েক দিন আগে ইয়াংছা বিদ্যুৎ অফিসের কর্মীরা বধুরঝিরী এলাকায় বিদ্যুতের প্রধান লাইনের আশপাশের গাছের ডালপালা পরিষ্কার করতে যান। এ সময় দুটি ছোট সেগুনগাছ বিদ্যুতের লাইনে স্পর্শ করায় সেগুলো কেটে ফেলা হয়।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, রাস্তার পাশের গাছের ডালপালা কাটার পর স্থানীয় লোকজন প্রায়ই সেখান থেকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য লাকড়ি সংগ্রহ করেন। এবারও মাহমুদা, মরজিনা হুসনেআরা লাকড়ি সংগ্রহ করতে গেলে আয়েশা নামের এক প্রতিবেশীর সঙ্গে তাঁদের তর্কবিতর্ক হয়। ঘটনাটি বিদ্যুৎ অফিসের কর্মীরাও দেখেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, ওই বিরোধের জেরে আয়েশা সংশ্লিষ্ট নারীদের স্বামীদের বিরুদ্ধে ৩০২/৪২৭/৩৭৯/৩৫৪/৫০৬(২) ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামীরা হলেন, মোঃ ফারুক(৫০), মোঃ শুক্কুর(৪০) মোঃ কবির(৬০)।
গাছের ডালপালা কাটার কাজে দায়িত্বরত পারভেজ বলেন, গাছ গুলো আমদের বিদ্যুৎ এর লোকজনই কেটেছে। আমাদের লোকজন লামা থানাতে গিয়েও সাক্ষী দিয়ে এসেছে। প্রয়োজনে কোর্টে গিয়েও সাক্ষী দিবে। এ সময় কয়েকজন নারী লাকড়ি সংগ্রহ করতে এসে নিজেদের মধ্যে তর্কবিতর্ক করছিলেন। কিন্তু পুরুষদের বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। সেখানে অভিযুক্ত পুরুষেরা কেউ ছিলোনা।
বিদ্যুতের লাইনের গাড়িচালক মো. বশির বলেন, গাছগুলো কাটার সময় আমি পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। গাছগুলো বিদ্যুৎ অফিসের লোকজনই কেটেছেন। সেখানে অভিযুক্ত পুরুষদের কাউকে দেখিনি।
কয়েকজন নারী লাকড়ি সংগ্রহ করতে এসেছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হতে দেখেছি। আমার জানা মতে, গাছ কাটার সময় ওই পুরুষেরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটিকে আমি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে মনে করি।
স্থানীয় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং মামলার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও মামলার নথি যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মামলার ১ নম্বর আসামি মোঃ ফারুক বলেন, আমরা সবাই কৃষি কাজ নিয়ে বিজি ছিলাম, আমরা পুরুষ কেউ কাছ কাটার সময় ছিলাম না। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আমরা প্রশাসনের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তাঁরা যেন তদন্ত করে সঠিক বিচারটা করে।
মাহমুদা, মরজিনা ও হুসনেআরা বলেন, বিদ্যুৎ এর লাইনের লোকজন গাছের ডালপালা কাটতেছে দেখে আমরা লাকড়ী সংগ্রহ করতে আসি। লাকড়ি নিয়ে গিয়ে আয়েশা আমাদেরকে লাকড়ী না নিতে বলায় একপর্যায়ে আয়েশার সাথে আমাদের কথা কাটাকাটি হয়। এরপর শুনতেছি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাচ্ছি।
মামলার বাদী আয়েশা আক্তার বলেন, আমার বাগান থেকে আসামীরা সেগুন গাছ গুলো কাটার সময় আমি তাদের বাঁধা দিলে তারা তিনজন মিলে আমাকে মারধর করে। এরপর আমি চিকিৎসা শেষে মামলা দায়ের করি।