
গাজীপুর জেলা পিবিআইয়ের এসআই (নিঃ) মোহা. আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে এক নারী বাদীকে মামলার তদন্তের ভয় দেখিয়ে ঘুষ দাবি এবং আসামিপক্ষের নিকট থেকে উৎকোচ নিয়ে মনগড়া ও মিথ্যা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) এঘটনায় পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর এসআই মোহা. আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী নারী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অপরাধে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআই, গাজীপুরকে তদন্তের নির্দেশ দেয় এবং তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই মোহা. আলতাফ হোসেন। কিন্তু তদন্তভার পাওয়ার পরই খাসলত প্রকাশ করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। বাদীর অনুকূলে প্রতিবেদন দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘুষ দাবি করেন এসআই আলতাফ। বাদী একজন অসহায় নারী হওয়ায় এবং টাকা দেওয়া অসম্ভব জানালে এসআইয়ের অনৈতিক চাহিদার বলি হতে হয় তাকে। ঘুষ দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তিনি তদন্তের অত্যন্ত সংবেদনশীল ধাপ-ভিকটিমের আইনি ও সময়োপযোগী ডাক্তারি (মেডিকেল) পরীক্ষা সম্পন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চরম অবহেলা ও কালক্ষেপণ করেন।
আসামির সাথে গোপন সখ্যতা গড়া, ভুয়া প্রতিবেদন দাখিল করা ছাড়াও আইন অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এসআই আলতাফ শারীরিক ও জৈবিক আলামত বিনষ্ট হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেন, যা সরাসরি সাক্ষ্য প্রমাণ ধ্বংসের শামিল এবং গুরুতর পেশাগত অপরাধ।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিপক্ষের নিকট থেকে ঘুষ নিয়ে সম্পূর্ণ পক্ষপাতদুষ্ট ও একপেশে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছেন। প্রতিবেদনে মামলার ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বাস্তববহির্ভূত বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা আসামিকে বাঁচানোর এক সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র। নিয়ম অনুযায়ী ঘটনাস্থলের সত্যতা প্রমাণে উপস্থিত সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ বাধ্যতামূলক হলেও, এসআই আলতাফ পূর্বপরিকল্পিতভাবে সাক্ষীদের আইনি জবানবন্দি রেকর্ড করেননি এবং অনেক সাক্ষীকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দিয়েছেন। নিরপেক্ষভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করে এবং আলামত জব্দ না করে সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও ত্রুটিপূর্ণ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে গাজীপুর আদালত প্রাঙ্গণে আসামি নিজেই ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিনামার মাধ্যমে অপরাধ স্বীকার করে আপোষনামা করার চেষ্টা চালান। অথচ সেই সত্যকে ধামাচাপা দিয়ে অর্থের জোরে অপরাধীকে দায়মুক্তি দেওয়ার মিশনে নেমেছেন ওই তদন্ত কর্মকর্তা।

ছবি: আলতাফের বিরুদ্ধে বাদীর দাখিলকৃত অভিযোগ।
এ পরিস্থিতিতে অসহায় ভুক্তভোগী নারী পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পিবিআই প্রধান কার্যালয় এর বরাবর এসআই মোহা. আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ বিভাগীয় তদন্তপূর্বক কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রার্থনা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই আলতাফ হোসেনের ব্যাক্তিগত ০১৬১….৭৫২ নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমাদের ফোন রিসিভ করেন নাই।
পুলিশের পোশাক পরে যারা অপরাধীদের রক্ষা এবং অসহায় মানুষের সাথে প্রতারণা করে, তাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে আইনের শাসন মারাত্মকভাবে হোঁচট খাবে-এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।
