
বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম ও মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা রেমাক্রী ইউনিয়নের বড় মদক গ্রামে হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। মাত্র একদিনে ১০ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে থুইনুপ্রু (৩০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় পুরো গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড় মদক গ্রামে প্রায় ১৬০টি পরিবার বসবাস করে। একসঙ্গে একাধিক মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় দুটি ফার্মেসিতে ওআরএস ও প্রয়োজনীয় ওষুধ না থাকায় আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বজনরা।
শনিবার সকালে গুরুতর অসুস্থ ঙানিংঅং (৬০)-কে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের ধারণা, মদক ঝিরির অপরিষ্কার ও আবর্জনাযুক্ত পানি ব্যবহারের কারণে ডায়রিয়ার বিস্তার ঘটতে পারে। তবে রোগের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। স্বাস্থ্য বিভাগের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই এর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে।
থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ জানান, আক্রান্তদের চিকিৎসায় ওআরএস, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পানিশোধন ট্যাবলেটসহ একটি মেডিকেল টিম পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিজিবির ৩৮ ও ৫৭ ব্যাটালিয়নের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে হেলিকপ্টারে চিকিৎসক ও ওষুধ পাঠানোর বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় বড় মদক থেকে উপজেলা সদরে দ্রুত পৌঁছানো কঠিন। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের এই জনপদে নৌপথনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় গুরুতর রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশুদ্ধ পানি পান, পানি ফুটিয়ে বা পানিশোধন ট্যাবলেট ব্যবহার, খাবার ঢেকে রাখা এবং খাবারের আগে-পরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
এদিকে ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে দ্রুত চিকিৎসা দল পাঠানো, পর্যাপ্ত ওষুধ ও ওআরএস সরবরাহ এবং নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।