
বাংলাদেশ রেলেওয়েতে টিকিটিং ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনা, টিটিই-দের অনিয়ম এবং বিনা টিকিটের যাত্রীদের দাপটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ ট্রেনযাত্রীরা।শত কষ্ট করে কনফার্মড টিকিট কেটেও নির্ধারিত আসনে বসতে পারছেন না অনেকেই।তিতুমীর এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনে আসন দখল, হকারদের দৌরাত্ম্য এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে ট্রেন ভ্রমণ এখন পরিণত হয়েছে চরম দুর্ভোগে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নওগার আত্রাই স্টেশনে গিয়ে এমন চিত্রের দেখা মেলে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, টিকিট কেটে ট্রেনে উঠে নিজেদের আসনে যাওয়ার পর অনেক বৈধ যাত্রী দেখতে পাচ্ছেন তাদের আসনে বসে আছেন বিনা টিকিটের যাত্রী কিংবা টিটিই-দের মৌখিক অনুমতিতে ওঠা ব্যক্তিরা।
আসন ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে তর্কে জড়িয়ে পড়ছেন তারা। অনেক ক্ষেত্রে ট্রেনের দায়িত্বরত টিটিই (ট্রেন পরীক্ষক)-দের অনিয়ম ও অবৈধ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে বিনা টিকিটের যাত্রীদের প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ছবি: দৈনিক গণচিঠি (আন্ত:নগর চিত্রা এক্সপ্রেসে টিকেট কেটে দাঁড়িয়ে ও টিকেট ছাড়াই বসে যাচ্ছে যাত্রীরা। ছবিটি বুধবার সকালে আত্রাই স্টেশন থেকে তোলা)
রেলের ভেতরে গাদাগাদি অবস্থা তৈরি হওয়ায় শিশু, নারী ও প্রবীণ যাত্রীরা মারাত্মক কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। এর সাথে যোগ হয়েছে হকারদের অবাধ চলাচল ও ট্রেনের ভেতরের অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা পরিবেশ।
ভূক্তভোগী যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও যদি দাঁড়িয়ে বা অনিরাপদ পরিবেশে যেতে হয়, তবে এই টিকিটিং ব্যবস্থার অর্থ কী?তারা অবিলম্বে তিতুমীর এক্সপ্রেসসহ সকল আন্তঃনগর ট্রেনে বিনা টিকিটে ভ্রমণ বন্ধ করা, অসাধু টিটিই-দের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানান।দীর্ঘকালের টিটি সিন্ডিকেট ভেঙ্গে উত্তর বঙ্গের সকল ট্রেনের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।