
বান্দরবানের থানচি উপজেলায় সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অপরাধ দমন, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বলীপাড়া জোন (৩৮ বিজিবি)। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে থানচিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর চাঁদা আদায়ের পরিমাণ ৩৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ কমেছে।
বিজিবি জানায়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে থানচি উপজেলায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর চাঁদা আদায়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৭ কোটি টাকা। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তা কমে ১৬ কোটি ৯১ লাখ ৬ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত বিভিন্ন অভিযান ও কার্যক্রমের তথ্য সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরে বলীপাড়া জোন (৩৮ বিজিবি)। এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার, অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ, অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং চাঁদাবাজি দমনে পদক্ষেপ গ্রহণ।
দুর্গম থানচিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও কাজ করছে বিজিবি। বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধার, গুরুতর অসুস্থ পর্যটকদের সহায়তা এবং সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধারে বিজিবি সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
শুধু নিরাপত্তা কার্যক্রম নয়, স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নেও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বিজিবি। মানবিক সহায়তার আওতায় ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২৮৫ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ছয়টি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে ৬৫৬ জন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৩৫০ জনকে কম্বল এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৮৮ পরিবারের ৭৩০ সদস্যকে খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি স্থানীয় যুবকদের মধ্যে ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা এবং অসহায় পরিবারের ঘর নির্মাণ ও চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সম্প্রীতি ও আস্থার সম্পর্ক জোরদারে তাদের অভিযান ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।