
প্রতিটি মানুষকেই তার ধর্মের উউসব এবং ইবাদত স্বাধীন ও নিরাপত্তার সাথে করতে দেওয়া উচিৎ।তবে পূজার সিজনে মুসলমানদের সাবধানতা পূজার সিজনে অনেককেই লোক মুখের বিভিন্ন প্রচারণায় পূজা ও ইবাদতকে এক মনে করে ফেলতে দেখা যায়। অথচ পূজা ও ইবাদত সম্পূর্ণই ভিন্ন দুই জিনিস। কিন্তু কীভাবে? আসুন জেনে নেওয়া যাক।
সঙ্গার পার্থক্য:
পূজা হচ্ছে, স্রষ্টার প্রতীকির সামনে প্রতীকির নাম নিয়ে ভক্তি-শ্রদ্ধার নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরন করে শ্রদ্ধা জানানো। পক্ষান্তরে ইবাদতে সরাসরি স্রষ্টার কাছে স্রষ্টারই নাম নিয়ে ভক্তি-শ্রদ্ধা ভরে স্রষ্টার সন্তুষ্টি কামনা করা হয়।
অবয়বের পার্থক্য:
পূজাতে স্রষ্টার নির্দিষ্ট গুণ বা শক্তির কাল্পনিক অবয়বকে মেনে নেওয়া হয়। পক্ষান্তরে ইবাদত হয় সামাদ সত্তার। যিনি দেহ ধারণ এর প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে।
রূপের বিভিন্নতা :
একেক পূজায় একেক গুণের অবয়ব ও দেহকে কল্পনা করতে গিয়ে স্রষ্টার একাধিক রূপ হিন্দু সমাজে লক্ষ করা যায়। যা মুসলিম সমাজে প্রয়োজন হয় না। এ সমাজে স্রষ্টার আলাদা রূপের চিন্তা করতে না হওয়ায় এ জাতীয় ঝামেলা থেকেই বেঁচে থাকা সহজ হয়েছে।
নামের বৈপরিত্যতা :
খুব স্বাভাবিক, রূপ-দেহ ভিন্ন হওয়ায় স্রষ্টার প্রতীকির একাধিক নাম ও বৈশিষ্ট্যের কথাও একজন পূজারীকে জানার ঝামেলায় পড়তে হয়। যা মুসলিমদের বেলায় প্রয়োজন হয় না।
মাবুদে মাবুদে বিভিন্নতা :
পূজায় স্রষ্টার নির্দিষ্ট গুণ বা শক্তির কাল্পনিক অবয়বকে মেনে নেওয়া হয় বিধায় স্রষ্টার সামগ্রিক গুণ ও পূর্ণ সত্তার দিকে পূজারীর লক্ষ থাকে না। অথচ ইবাদতে একজন মুসলিম সর্বশক্তিমান আল্লাহর সত্তা ও তাঁর সমগ্র গূণাবলীর দিকেই নজর দিয়ে থাকে।
চাওয়ার ভিন্নতা :
পূজায় স্রষ্টাকে উপেক্ষা করে স্রষ্টার প্রতীকির কাছে চাওয়া হয়। আর ইবাদতে সরাসরি স্রষ্টার কাছেই চাওয়া হয়। অন্য কারো কাছে নয়।
উপকরণের ভিন্নতা :
পূজায় নির্দিষ্ট কিছু সামগ্রী রাখতেই হয়। যা ছাড়া পূজা হয় না। উদাহরণত- ফুল, চন্দন, তুলশী পাতা, মূর্তি ইত্যাদি। পক্ষান্তরে ইবাদতে এমন শর্ত-শারায়েত নেই। একজন গরীবও যে কোনো সময়, যে কোনো স্থানে পূজা দিতে পারে।
উপরের পার্থক্যসমূহের কারণে পূজা শিরক ও মারাত্মক অপরাধ বলে বিবেচিত। পক্ষান্তরে ইবাদত দাসত্বের বহিঃপ্রকাশের সর্বোচ্চ মাধ্যম ও মর্যাদার কারণ। আল্লাহ আমাদের এতদুভয়ের পার্থক্য অনুধাবন করে পূজা থেকে বেঁচে ইবাদতে আত্বনিমগ্ন হওয়ার তওফিক দান করেন। আমিন!